জাতীয় সংসদকে জাতির দর্পণ হিসেবে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, এই মঞ্চে এসে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। তিনি জানান, এই সংসদে এমন কিছু সদস্য রয়েছেন যারা চরম প্রতিকূলতা পেরিয়ে এসেছেন। কেউ এসেছেন ফাঁসির মঞ্চ থেকে, কেউ গুম হওয়া থেকে মুক্তি পেয়ে, আবার কেউ দীর্ঘ কারাভোগের পর মজলুম হিসেবে সংসদে স্থান পেয়েছেন। এমন বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সংগ্রামমুখর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সংসদ বিশ্বজুড়ে বিরল বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে এখানে আসার সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে সম্মানিত বোধ করছেন।
রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ১৩ দিনের বিরতির পর শুরু হওয়া এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত করার জন্য সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী এবং সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, নেত্রকোনা-১ আসনের জনগণের প্রতিও তিনি ধন্যবাদ জানান, যাদের সমর্থনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, আমাদের জাতির ইতিহাস ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রচিত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি, যার পেছনে রয়েছে লাখো শহীদের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য সাহসিকতা। তিনি এই পবিত্র সংসদ থেকে তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা জানান, যিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আমৃত্যু ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ উপাধিতে ভূষিত হওয়াকেও তিনি স্মরণ করেন।
তিনি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের কথাও উল্লেখ করেন, যা ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রের দ্বার উন্মুক্ত করেছে। তিনি জুলাই-আগস্টের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























