ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

শিশুমৃত্যু রোধে বিশেষ বরাদ্দ ও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি

দেশে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে আসন্ন বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ এবং জাতীয় নীতিমালায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ। রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পানিতে ডুবে যাওয়া প্রতিরোধে টেকসই সরকারি অর্থায়ন’ শীর্ষক এক নীতি-সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সংলাপটির আয়োজন করে গণমাধ্যম ও যোগাযোগবিষয়ক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘সমষ্টি’ এবং এতে সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়, যা একটি নীরব জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “একটি শিশুর মৃত্যু মানে একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া। তাই এ সমস্যা মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।” তিনি আরও জানান, সরকার শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিউনিটিভিত্তিক শিশু-যত্ন কেন্দ্র চালু রাখা, সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বিবেচনা করছে। পাশাপাশি নীতি-সংলাপ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে বাজেট ও জাতীয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অনুষ্ঠানে সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুরুজ্জামান স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সংলাপ সঞ্চালনা করেন। গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির পরিচালক (গবেষণা ও যোগাযোগ) রেজাউল হক। উপস্থাপনায় জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৪ হাজারের বেশি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায় এবং ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর একটি এটি। ইতোমধ্যে কমিউনিটিভিত্তিক শিশু-যত্ন কেন্দ্র, সাঁতার প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো উদ্যোগ কার্যকর প্রমাণিত হলেও তা এখনও প্রকল্পনির্ভর হওয়ায় স্থায়িত্ব ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংলাপে অংশগ্রহণকারী বক্তারা টেকসই সরকারি বিনিয়োগ, বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি প্রতিনিধিরা বিদ্যমান কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আশ্বাস দেন। প্যানেল আলোচনা ও উন্মুক্ত পর্বে অংশগ্রহণকারীরা পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি ও প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। শেষে এ সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ ও টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই নীতি-সংলাপ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদযাত্রায় সড়কে মৃত্যুর মিছিল: ৩৭৭ দুর্ঘটনায় নিহত ৩৯৪, বিষাদে স্বজনহারা পরিবার

শিশুমৃত্যু রোধে বিশেষ বরাদ্দ ও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

দেশে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে আসন্ন বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ এবং জাতীয় নীতিমালায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ। রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পানিতে ডুবে যাওয়া প্রতিরোধে টেকসই সরকারি অর্থায়ন’ শীর্ষক এক নীতি-সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সংলাপটির আয়োজন করে গণমাধ্যম ও যোগাযোগবিষয়ক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘সমষ্টি’ এবং এতে সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়, যা একটি নীরব জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “একটি শিশুর মৃত্যু মানে একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া। তাই এ সমস্যা মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।” তিনি আরও জানান, সরকার শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিউনিটিভিত্তিক শিশু-যত্ন কেন্দ্র চালু রাখা, সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বিবেচনা করছে। পাশাপাশি নীতি-সংলাপ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে বাজেট ও জাতীয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অনুষ্ঠানে সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুরুজ্জামান স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সংলাপ সঞ্চালনা করেন। গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির পরিচালক (গবেষণা ও যোগাযোগ) রেজাউল হক। উপস্থাপনায় জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৪ হাজারের বেশি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায় এবং ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর একটি এটি। ইতোমধ্যে কমিউনিটিভিত্তিক শিশু-যত্ন কেন্দ্র, সাঁতার প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো উদ্যোগ কার্যকর প্রমাণিত হলেও তা এখনও প্রকল্পনির্ভর হওয়ায় স্থায়িত্ব ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংলাপে অংশগ্রহণকারী বক্তারা টেকসই সরকারি বিনিয়োগ, বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি প্রতিনিধিরা বিদ্যমান কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আশ্বাস দেন। প্যানেল আলোচনা ও উন্মুক্ত পর্বে অংশগ্রহণকারীরা পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি ও প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। শেষে এ সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ ও টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই নীতি-সংলাপ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।