ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে জরুরি পদক্ষেপ: হোম অফিস ও রেশনিংয়ের পথে বিভিন্ন দেশ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ প্রায় এক মাস অতিক্রম করায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি ও হাহাকার দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর ছাড়, রেশনিং, এমনকি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ বা ‘হোম অফিস’ করার মতো নীতি গ্রহণ করছে বিভিন্ন দেশের সরকার।

মিয়ানমারে মানবিক বিপর্যয় ও হোম অফিস: জ্বালানি সংকট মিয়ানমারে চরমে পৌঁছেছে। পেট্রোলের জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে প্রচণ্ড তাপে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মিয়ানমার সরকার সরকারি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে উৎসাহিত করছে। এর পাশাপাশি দেশটি কাতার, কুয়েত ও জাপানের মতো দেশগুলোর কাছে জরুরি জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে।

পূর্ব আফ্রিকায় রপ্তানি ও সাশ্রয় নীতি: কেনিয়া সরকার তাদের অর্থনীতি সচল রাখতে পচনশীল পণ্য যেমন—ফুল, অ্যাভোকাডো ও সবজি রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে দেশটির ফুল শিল্প ইতোমধ্যে ৪২ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ জরুরি সেবা বাদে সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোরভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

নাইজেরিয়ায় বিকল্প জ্বালানির বিপ্লব: তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমদানিনির্ভর নাইজেরিয়ায় পেট্রোলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ টিনুবু পেট্রোলচালিত যানবাহনগুলোকে দ্রুত সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) এবং বৈদ্যুতিক যানে (ইভি) রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছে রূপান্তর কিট সহজলভ্য করতে বিশেষ ক্রেডিট মডেল বা ঋণের ব্যবস্থাও করছে দেশটির সরকার।

ভিয়েতনামে কর প্রত্যাহার ও আন্তর্জাতিক চুক্তি: ভিয়েতনাম সরকার গত ২৭ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানির ওপর থেকে ‘পরিবেশ কর’ পুরোপুরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজস্ব ক্ষতির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও জনগণের ভোগান্তি কমাতে এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিয়েতনাম সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে তেল ও গ্যাস উৎপাদন বিষয়ে একটি বড় চুক্তি সই করেছে। মিয়ানমারের মতো ভিয়েতনামেও নাগরিকদের যাতায়াত কমিয়ে অনলাইনে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং বৈশ্বিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর এক ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করেছে। দেশগুলো এখন আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানি ও সাশ্রয়ী নীতির দিকেই বেশি ঝুঁকছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী: ১৪ স্থানে ব্যারিকেড ও কঠোর বিধিনিষেধ

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে জরুরি পদক্ষেপ: হোম অফিস ও রেশনিংয়ের পথে বিভিন্ন দেশ

আপডেট সময় : ১২:২০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ প্রায় এক মাস অতিক্রম করায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি ও হাহাকার দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর ছাড়, রেশনিং, এমনকি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ বা ‘হোম অফিস’ করার মতো নীতি গ্রহণ করছে বিভিন্ন দেশের সরকার।

মিয়ানমারে মানবিক বিপর্যয় ও হোম অফিস: জ্বালানি সংকট মিয়ানমারে চরমে পৌঁছেছে। পেট্রোলের জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে প্রচণ্ড তাপে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মিয়ানমার সরকার সরকারি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে উৎসাহিত করছে। এর পাশাপাশি দেশটি কাতার, কুয়েত ও জাপানের মতো দেশগুলোর কাছে জরুরি জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে।

পূর্ব আফ্রিকায় রপ্তানি ও সাশ্রয় নীতি: কেনিয়া সরকার তাদের অর্থনীতি সচল রাখতে পচনশীল পণ্য যেমন—ফুল, অ্যাভোকাডো ও সবজি রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে দেশটির ফুল শিল্প ইতোমধ্যে ৪২ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ জরুরি সেবা বাদে সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোরভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

নাইজেরিয়ায় বিকল্প জ্বালানির বিপ্লব: তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমদানিনির্ভর নাইজেরিয়ায় পেট্রোলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ টিনুবু পেট্রোলচালিত যানবাহনগুলোকে দ্রুত সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) এবং বৈদ্যুতিক যানে (ইভি) রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছে রূপান্তর কিট সহজলভ্য করতে বিশেষ ক্রেডিট মডেল বা ঋণের ব্যবস্থাও করছে দেশটির সরকার।

ভিয়েতনামে কর প্রত্যাহার ও আন্তর্জাতিক চুক্তি: ভিয়েতনাম সরকার গত ২৭ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানির ওপর থেকে ‘পরিবেশ কর’ পুরোপুরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজস্ব ক্ষতির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও জনগণের ভোগান্তি কমাতে এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিয়েতনাম সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে তেল ও গ্যাস উৎপাদন বিষয়ে একটি বড় চুক্তি সই করেছে। মিয়ানমারের মতো ভিয়েতনামেও নাগরিকদের যাতায়াত কমিয়ে অনলাইনে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং বৈশ্বিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর এক ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করেছে। দেশগুলো এখন আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানি ও সাশ্রয়ী নীতির দিকেই বেশি ঝুঁকছে।