ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী: ১৪ স্থানে ব্যারিকেড ও কঠোর বিধিনিষেধ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ও বিশেষ করে রমনা বটমূল এলাকাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদর গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২০০১ সালের রমনা বটমূলে বোমা হামলার ভয়াবহ স্মৃতিকে মাথায় রেখে এবার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পুরো ঢাকাকে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে কড়া তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। র‍্যাবের পক্ষ থেকে আকাশপথে হেলিকপ্টার টহল এবং স্থলপথে মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যানের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালানো হচ্ছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিএমপির পক্ষ থেকে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে এবং বিকেল ৫টার পর রমনা পার্কে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মুখোশ পরে মুখ ঢাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে তা হাতে রাখা বা প্রদর্শন করা যাবে। এছাড়া ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো, আতশবাজি ফোটানো, ফানুস ওড়ানো এবং ব্যাগ বা দাহ্য পদার্থ বহন করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ইভটিজিং ও পকেটমার রোধে সাদা পোশাকে বিশেষ গোয়েন্দা টিম কাজ করবে এবং গুজব ঠেকাতে সাইবার স্পেসেও কঠোর নজরদারি চালানো হবে।

যাতায়াত ও শৃঙ্খলার স্বার্থে ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্টিকারবিহীন যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং পহেলা বৈশাখ ভোর ৫টা থেকে শাহবাগ ও সংলগ্ন এলাকায় ট্রাফিক ডাইভারশন দেওয়া হবে। জরুরি সহায়তার জন্য ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম এবং রমনা পার্কে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ডিএমপি ও র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কোনো হামলার শঙ্কা না থাকলেও কোনো ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলায় তারা পূর্ণ প্রস্তুত। উৎসবকে আনন্দঘন ও নিরাপদ করতে নগরবাসীকে সন্দেহজনক কিছু দেখলেই ৯৯৯ বা নিকটস্থ কন্ট্রোল রুমে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন: মাটির নিচে অত্যাধুনিক বাংকার ও টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা

পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী: ১৪ স্থানে ব্যারিকেড ও কঠোর বিধিনিষেধ

আপডেট সময় : ১০:৪৫:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ও বিশেষ করে রমনা বটমূল এলাকাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদর গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২০০১ সালের রমনা বটমূলে বোমা হামলার ভয়াবহ স্মৃতিকে মাথায় রেখে এবার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পুরো ঢাকাকে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে কড়া তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। র‍্যাবের পক্ষ থেকে আকাশপথে হেলিকপ্টার টহল এবং স্থলপথে মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যানের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালানো হচ্ছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিএমপির পক্ষ থেকে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে এবং বিকেল ৫টার পর রমনা পার্কে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মুখোশ পরে মুখ ঢাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে তা হাতে রাখা বা প্রদর্শন করা যাবে। এছাড়া ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো, আতশবাজি ফোটানো, ফানুস ওড়ানো এবং ব্যাগ বা দাহ্য পদার্থ বহন করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ইভটিজিং ও পকেটমার রোধে সাদা পোশাকে বিশেষ গোয়েন্দা টিম কাজ করবে এবং গুজব ঠেকাতে সাইবার স্পেসেও কঠোর নজরদারি চালানো হবে।

যাতায়াত ও শৃঙ্খলার স্বার্থে ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্টিকারবিহীন যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং পহেলা বৈশাখ ভোর ৫টা থেকে শাহবাগ ও সংলগ্ন এলাকায় ট্রাফিক ডাইভারশন দেওয়া হবে। জরুরি সহায়তার জন্য ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম এবং রমনা পার্কে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ডিএমপি ও র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কোনো হামলার শঙ্কা না থাকলেও কোনো ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলায় তারা পূর্ণ প্রস্তুত। উৎসবকে আনন্দঘন ও নিরাপদ করতে নগরবাসীকে সন্দেহজনক কিছু দেখলেই ৯৯৯ বা নিকটস্থ কন্ট্রোল রুমে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।