দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক—সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল—বর্তমানে শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের চাপে চরম সংকটে নিমজ্জিত। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই ব্যাংকগুলোর মোট শ্রেণীকৃত ঋণের অর্ধেকেরও বেশি আটকে আছে মাত্র ২০ জন বড় খেলাপির হাতে। এসব ব্যাংকের মোট শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা হলেও, এর মধ্যে ৯১ হাজার ১৩৩ কোটি টাকাই এই ২০ খেলাপির কাছে পাওনা। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ২০২৫ সালে এই বিশাল অংকের পাওনার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৪৬৮ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসেবে মাত্র শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ। ঋণ আদায়ের এই স্থবিরতা ব্যাংকগুলোকে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি এবং আর্থিক লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, যেখানে শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছেই আটকে আছে ৫৮ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। বিপরীতে অগ্রণী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ১৩২ কোটি টাকায়। ব্যাংক খাতের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্লেষকরা বলছেন, শক্তিশালী আইন এবং কঠোর জবাবদিহিতা ছাড়া এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। সোনালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মতো ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অর্থ পুনরুদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি মেটাতে করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি ক্ষতিকর চক্র তৈরি করছে।
এদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ বাড়লেও খেলাপি ঋণের পাহাড় ও অবলোপনকৃত ঋণের বোঝা পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও জটিল করে তুলছে। সোনালী ব্যাংকের অবলোপনকৃত ঋণ ৯ হাজার ৪শ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা ব্যাংকটির ব্যালেন্স শিটের প্রকৃত চিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দা আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ মনে করেন, মাত্র ২০ জন গ্রাহকের কাছে এত বিশাল অংকের টাকা আটকে থাকা ব্যাংক খাতের অন্যতম প্রধান দুর্বলতা। সংকট সমাধানে দক্ষ ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কট করার পাশাপাশি আইনি কঠোরতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
রিপোর্টারের নাম 






















