হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে অবস্থানরত বাংলাদেশের সব জাহাজ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ওই এলাকায় বর্তমানে জাহাজের ব্যাপক জট থাকায় বাংলাদেশি জাহাজগুলো শনাক্ত করে ছাড়পত্র দিতে ইরান কিছুটা সময় নিচ্ছে। তেহরানের পক্ষ থেকে ঢাকাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের কোনো জাহাজই সেখানে আটকে রাখা হবে না এবং এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে ইরান বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জ্বালানি মজুত বাড়াতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে সোর্সিং প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন বিকল্প উৎস সন্ধানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দেশে বর্তমানে জ্বালানির কোনো তাৎক্ষণিক সংকট নেই এবং আগামী তিন থেকে চার মাসের পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জানান যে, সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে পাকিস্তানে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে বাংলাদেশ আশা করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতা অর্জনে এই সংলাপ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এই সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং গোটা বিশ্বই চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বিদেশ সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ জানান, এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। সব মিলিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রেখে নিজের স্বার্থ সুরক্ষায় সচেষ্ট রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















