গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পটি এখন সরকারের জন্য এক অকার্যকর ও ব্যয়বহুল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুল পরিকল্পনা, ত্রুটিপূর্ণ নকশা এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও প্রকল্পটি তার মূল উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৩ সালে নির্বাচনী চমক হিসেবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কচ্ছপগতিতে চলা এই প্রকল্পের কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এর পাশাপাশি, অসতর্কতার কারণে একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যা প্রকল্পটির ব্যর্থতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
প্রকল্পের মূল স্লোগান ছিল মাত্র ৩৫ মিনিটে গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত যাতায়াত সহজ করা। কিন্তু বাস্তবে এই রুটে যানজট কমেনি, বরং কিছু অংশে দ্বিতলকরণ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকল্পটি সরকারের গলায় কাঁটা হয়ে বিঁধেছে, যা সহজে সরানো সম্ভব নয়।
‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় গৃহীত এই প্রকল্পটি অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত সরকারের সময়ের একটি লুটপাটের প্রকল্প। এর বিপুল অর্থ অপচয় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে বর্তমানে একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।
চার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করার পর প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নকশার দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট হওয়ায়, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর খরচ ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব বাতিল করেছে। অবকাঠামো খাতের বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্পকে বিশ্বে বিরল বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন, শরীরের মাপ না নিয়ে পোশাক তৈরির মতো, ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও সমীক্ষা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যের আদলে নকশা প্রণয়ন করে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এমন কাণ্ড ঘটেছে। বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও যাত্রীদের জন্য কোনো বাড়তি সুবিধা যোগ হয়নি, বরং কোথাও কোথাও ভোগান্তি বেড়েছে। প্রকল্প চলাকালে গার্ডার ভেঙে পাঁচজন নিহত হওয়া এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনা প্রকল্পের নিরাপত্তা ও পরিকল্পনার ত্রুটিকেই নির্দেশ করে।
তবে, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত পরামর্শক ও কর্মকর্তাদের দাবি, নকশার ত্রুটি থাকলেও তা সমাধানযোগ্য এবং প্রকল্পের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 
























