ঢাকা ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় বাংলাদেশি চিকিৎসকের যুগান্তকারী সাফল্য: পিসিওএস রোগীদের জন্য নতুন আশা

বন্ধ্যাত্ব নিরাময়ে অত্যাধুনিক প্রজনন সহায়ক প্রযুক্তি ইন ভিট্রো ম্যাচুরেশন (আইভিএম) গবেষণায় এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ড. আশরাফুন নাহার। তার নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) জনিত বন্ধ্যাত্বে ভোগা নারীদের জন্য এই বিশেষ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। এই গবেষণা পিসিওএস রোগীদের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা সমাধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং আশার আলো জাগিয়েছে।

সম্প্রতি আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনের বার্ষিক বৈজ্ঞানিক কংগ্রেস ও এক্সপোতে উপস্থাপিত এক গবেষণায় আইভিএম প্রযুক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ উপকারের সন্ধান পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পিসিওএস রোগীদের জন্য ডিম্বাণুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পরিপূরক অত্যন্ত উপকারী। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো সেন্টার ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনে ড. আশরাফুন নাহারের নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। সেখানে পিসিওএস আক্রান্ত ও বন্ধ্যাত্বে ভোগা রোগীদের গবেষণার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

আইভিএম হলো একটি উন্নত সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি, যেখানে নারীর শরীর থেকে অপরিপক্ক ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে বা শরীরের বাইরে কৃত্রিমভাবে পরিপক্ক করা হয়। এরপর নিষিক্তকরণের পর সেটি জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। পিসিওএস রোগীদের জন্য এই পদ্ধতিটি বিশেষভাবে কার্যকর, কারণ এতে প্রচলিত আইভিএফ পদ্ধতির তুলনায় হরমোন ইনজেকশনের প্রয়োজন অনেক কম হয় বা নাও লাগতে পারে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী রোগীদের গড় অ্যান্টি-মুলারিয়ান হরমোনের মাত্রা ছিল ৮.৫ ন্যানোগ্রাম/মিলিলিটার এবং তাদের গড় বয়স ছিল ৩০.৫ বছর। এছাড়াও, রোগীদের গড় বিএমআই ছিল ২৮.৫ কেজি/বর্গমিটার।

গবেষণার অংশ হিসেবে, প্রত্যেক রোগীকে তিন দিনের জন্য স্বল্প মাত্রার ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (১৫০ আইইউ ডোজ) দেওয়া হয়েছিল। গবেষকরা হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন ট্রিগার প্রয়োগ ছাড়াই ডিম্বাণু সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। সংগৃহীত ডিম্বাণুগুলো এরপর একটি বাইফেজিক আইভিএম সিস্টেমে ইনকিউবেশনের জন্য রাখা হয়, যেখানে ডিম্বাণুগুলো একটি বিশেষ আইভিএম মিডিয়ামে পরিপক্ক হয়। কিছু ডিম্বাণু মাইটোকুইনোন ব্যবহার করে পরিপক্ক করা হয়েছিল। গবেষকরা ডিম্বাণুর কিউমুলাস কোষের প্রসারণ পর্যবেক্ষণ করে এর কার্যকারিতা যাচাই করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টেলিভিশনের পর্দায় আজকের খেলা: মাঠ কাঁপাবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট ও আইপিএল

বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় বাংলাদেশি চিকিৎসকের যুগান্তকারী সাফল্য: পিসিওএস রোগীদের জন্য নতুন আশা

আপডেট সময় : ০২:৩৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

বন্ধ্যাত্ব নিরাময়ে অত্যাধুনিক প্রজনন সহায়ক প্রযুক্তি ইন ভিট্রো ম্যাচুরেশন (আইভিএম) গবেষণায় এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ড. আশরাফুন নাহার। তার নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) জনিত বন্ধ্যাত্বে ভোগা নারীদের জন্য এই বিশেষ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। এই গবেষণা পিসিওএস রোগীদের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা সমাধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং আশার আলো জাগিয়েছে।

সম্প্রতি আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনের বার্ষিক বৈজ্ঞানিক কংগ্রেস ও এক্সপোতে উপস্থাপিত এক গবেষণায় আইভিএম প্রযুক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ উপকারের সন্ধান পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পিসিওএস রোগীদের জন্য ডিম্বাণুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পরিপূরক অত্যন্ত উপকারী। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো সেন্টার ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনে ড. আশরাফুন নাহারের নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। সেখানে পিসিওএস আক্রান্ত ও বন্ধ্যাত্বে ভোগা রোগীদের গবেষণার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

আইভিএম হলো একটি উন্নত সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি, যেখানে নারীর শরীর থেকে অপরিপক্ক ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে বা শরীরের বাইরে কৃত্রিমভাবে পরিপক্ক করা হয়। এরপর নিষিক্তকরণের পর সেটি জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। পিসিওএস রোগীদের জন্য এই পদ্ধতিটি বিশেষভাবে কার্যকর, কারণ এতে প্রচলিত আইভিএফ পদ্ধতির তুলনায় হরমোন ইনজেকশনের প্রয়োজন অনেক কম হয় বা নাও লাগতে পারে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী রোগীদের গড় অ্যান্টি-মুলারিয়ান হরমোনের মাত্রা ছিল ৮.৫ ন্যানোগ্রাম/মিলিলিটার এবং তাদের গড় বয়স ছিল ৩০.৫ বছর। এছাড়াও, রোগীদের গড় বিএমআই ছিল ২৮.৫ কেজি/বর্গমিটার।

গবেষণার অংশ হিসেবে, প্রত্যেক রোগীকে তিন দিনের জন্য স্বল্প মাত্রার ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (১৫০ আইইউ ডোজ) দেওয়া হয়েছিল। গবেষকরা হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন ট্রিগার প্রয়োগ ছাড়াই ডিম্বাণু সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। সংগৃহীত ডিম্বাণুগুলো এরপর একটি বাইফেজিক আইভিএম সিস্টেমে ইনকিউবেশনের জন্য রাখা হয়, যেখানে ডিম্বাণুগুলো একটি বিশেষ আইভিএম মিডিয়ামে পরিপক্ক হয়। কিছু ডিম্বাণু মাইটোকুইনোন ব্যবহার করে পরিপক্ক করা হয়েছিল। গবেষকরা ডিম্বাণুর কিউমুলাস কোষের প্রসারণ পর্যবেক্ষণ করে এর কার্যকারিতা যাচাই করেছেন।