ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

জনপ্রত্যাশা পূরণে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান: ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দাঁড়িয়ে আছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর। তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে এখনো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দেশ পরিচালনা করার কথা ছিল। কিন্তু তাদের কায়েম করা স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রুখে দাঁড়ালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের উৎখাত করা হয়।

শনিবার বিকেলে পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নিয়মিত বৈঠকে অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ‘সাংবিধানিক বিষয় নয়, বরং বিদ্যমান সংবিধানের তৈরি করা সুযোগে সৃষ্ট স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনতার গণইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। আধুনিক রাষ্ট্রে গণইচ্ছাই সর্বোচ্চ আইন। তাই সরকারকে বলব, অভ্যুত্থানের পরে গঠিত সংস্কার কমিশন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও সকল রাজনৈতিক দলের যৌথ মতামতে গৃহীত এবং গণভোটের মাধ্যমে জনরায়ে পরিণত হওয়া সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ‘অতিসাংবিধানিকতা’ না দেখিয়ে সংস্কার সাধনে আন্তরিক হোন।

তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা যে অর্থে সাংবিধানিকতাকে হাজির করছেন, সেই অর্থে এই সংসদও সাংবিধানিক নয়। তবে আমরা মনে করি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, গণভোট ও এই সংসদ সবকিছুই জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় বলে সাংবিধানিক। তিনি আরও বলেন, সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হবে কিনা, এ আলোচনায় গণভোট সম্পর্কিত অধ্যাদেশ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এক ধরণের সংশয় তৈরি করা হয়েছে। আজকের আইনমন্ত্রী গণভোট অধ্যাদেশ জারিরকালে অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। তখন তার দপ্তর থেকে গণভোট অধ্যাদেশকে আইনসম্মত বলা হলেও, আজকে যখন তিনি আইনমন্ত্রী, তখন তার দপ্তর থেকে বলা হচ্ছে, ‘যে আদেশের ওপর গণভোট হয়েছে, তা নাকি ছিল এখতিয়ারবহির্ভূত। সুতরাং অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা যাবে না।’

আইনমন্ত্রীর এই দ্বিমুখী মতামত নৈতিকতাবহির্ভূত এবং গণরায়কে উপেক্ষা করার নামান্তর। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, কোনো ধরণের ছলচাতুরি, সংবিধানের প্রতি অতিভক্তি দেখানো বন্ধ করে গণভোট ও জুলাই সনদ গণরায় অনুসারে বাস্তবায়ন করতে হবে। অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে সংশোধনী এনে সরকার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীকে অতিক্ষমতায়িত করতে চাইছে। একক ব্যক্তিকে অতিক্ষমতায়িত করার পরিণতি জাতি… (বাক্যটি অসম্পূর্ণ)

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধবিরতি শুরুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ইসরাইলি আগ্রাসন, দক্ষিণ লেবাননে তীব্র গোলাবর্ষণ

জনপ্রত্যাশা পূরণে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান: ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দাঁড়িয়ে আছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর। তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে এখনো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দেশ পরিচালনা করার কথা ছিল। কিন্তু তাদের কায়েম করা স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রুখে দাঁড়ালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের উৎখাত করা হয়।

শনিবার বিকেলে পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নিয়মিত বৈঠকে অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ‘সাংবিধানিক বিষয় নয়, বরং বিদ্যমান সংবিধানের তৈরি করা সুযোগে সৃষ্ট স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনতার গণইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। আধুনিক রাষ্ট্রে গণইচ্ছাই সর্বোচ্চ আইন। তাই সরকারকে বলব, অভ্যুত্থানের পরে গঠিত সংস্কার কমিশন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও সকল রাজনৈতিক দলের যৌথ মতামতে গৃহীত এবং গণভোটের মাধ্যমে জনরায়ে পরিণত হওয়া সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ‘অতিসাংবিধানিকতা’ না দেখিয়ে সংস্কার সাধনে আন্তরিক হোন।

তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা যে অর্থে সাংবিধানিকতাকে হাজির করছেন, সেই অর্থে এই সংসদও সাংবিধানিক নয়। তবে আমরা মনে করি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, গণভোট ও এই সংসদ সবকিছুই জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় বলে সাংবিধানিক। তিনি আরও বলেন, সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হবে কিনা, এ আলোচনায় গণভোট সম্পর্কিত অধ্যাদেশ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এক ধরণের সংশয় তৈরি করা হয়েছে। আজকের আইনমন্ত্রী গণভোট অধ্যাদেশ জারিরকালে অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। তখন তার দপ্তর থেকে গণভোট অধ্যাদেশকে আইনসম্মত বলা হলেও, আজকে যখন তিনি আইনমন্ত্রী, তখন তার দপ্তর থেকে বলা হচ্ছে, ‘যে আদেশের ওপর গণভোট হয়েছে, তা নাকি ছিল এখতিয়ারবহির্ভূত। সুতরাং অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা যাবে না।’

আইনমন্ত্রীর এই দ্বিমুখী মতামত নৈতিকতাবহির্ভূত এবং গণরায়কে উপেক্ষা করার নামান্তর। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, কোনো ধরণের ছলচাতুরি, সংবিধানের প্রতি অতিভক্তি দেখানো বন্ধ করে গণভোট ও জুলাই সনদ গণরায় অনুসারে বাস্তবায়ন করতে হবে। অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে সংশোধনী এনে সরকার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীকে অতিক্ষমতায়িত করতে চাইছে। একক ব্যক্তিকে অতিক্ষমতায়িত করার পরিণতি জাতি… (বাক্যটি অসম্পূর্ণ)