বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ভুয়া ক্লিনিক ও নার্সের মতো ভুয়া ডাক্তার তৈরির কারখানাও বন্ধ করে দেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী বর্তমান সরকারকে ‘অনিয়ম থেকে নিয়মের বাংলাদেশ’ গড়ার সরকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি ছুটির দিনে আকস্মিকভাবে মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রতিমন্ত্রী বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ফাইল পর্যালোচনা শুরু করেন। এ সময় একের পর এক ভয়াবহ অনিয়ম তার চোখে ধরা পড়ে। এরপর একটি বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি এসব গুরুতর বিষয় তুলে ধরেন।
ওই ভিডিও বার্তায় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তিনি এমন কিছু মেডিকেল কলেজের ফাইল দেখেছেন, যারা বিন্দুমাত্র নীতি-নিয়মের তোয়াক্কা করছে না। বছরের পর বছর ধরে বারবার বলার পরও তারা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বদলে নিছক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক কলেজের নিজস্ব জমি নেই, এমনকি আমানতের দলিলপত্রও নেই। এছাড়াও, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন ছাড়াই অনেক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে না আছে হাসপাতাল, না আছে রোগী। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা সেখানে ভর্তি হয়ে কীভাবে একজন যোগ্য চিকিৎসক হিসেবে গড়ে উঠবেন? অভিভাবকরা তাদের সারা জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ সন্তানদের পেছনে ব্যয় করছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা প্রতারিত হচ্ছেন। প্রশিক্ষণহীন এই চিকিৎসকরা যখন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবেন, তখন জনগণের জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে।
প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, প্রতিটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজকে একটি ‘মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড’ বা ন্যূনতম মান বজায় রাখতে হবে। পর্যাপ্ত জনবল, হাসপাতাল এবং রোগী না থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে আর চলতে দেওয়া হবে না। তিনি পুনরায় বর্তমান সরকারকে ‘অনিয়ম থেকে নিয়মের বাংলাদেশ’ গড়ার সরকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভুয়া ক্লিনিক ও নার্সের মতো ভুয়া ডাক্তার তৈরির কারখানাও আমাদের বন্ধ করতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























