ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ম্যাচের ৮, ১৮ ও ৩৮ মিনিটের তিনটি গোল হজম দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এই হারের জন্য মূলত গোলরক্ষক শ্রাবণের পাশাপাশি দলের ডিফেন্স প্রক্রিয়াও বড়ভাবে দায়ী। আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জিকোকে দলে না নেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ। শ্রাবণ এই মৌসুমে লিগের ম্যাচগুলোতেও নিয়মিত ছিলেন না, এমন অবস্থায় তাকে আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য বেছে নেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে সেই সমস্যারই প্রতিফলন দেখা গেছে।
তবে, এই ভুলগুলোর জন্য কোচ ক্যাবরেরাও কম দায়ী নন। যখন কোচ ক্যাবরেরা দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন বাংলাদেশ দল ছিল ভিন্ন। প্রবাসী খেলোয়াড় হামজা চৌধুরী, সামিত সোম, জায়ানসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় দলে যোগ দেওয়ার পর দলের শক্তি, খেলার স্টাইল এবং খেলোয়াড়দের একে অপরের সঙ্গে বোঝাপড়ায় (সিংক্রোনাইজেশন) বড় পরিবর্তন এসেছে। দলের সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধিপেয়েছ, যা ফুটবলের ভাষায় ‘স্ট্রেংথ বিল্ডআপ’ নামে পরিচিত। কিন্তু কোচ ক্যাবরেরা এই উন্নত দলটিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভিয়েতনাম ম্যাচে দল যে ভুলগুলো করেছে, একই ভুল যদি সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচেও দেখা যায়, তবে সমস্যার মূল কারণ যে কোচ, তা নিশ্চিত করে বলা যায়।
ভিয়েতনাম ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছিল, দলটি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল না। প্রথমার্ধের খেলা দেখে মনে হয়েছে, রক্ষণভাগ যেন তাদের মূল দায়িত্বই ভুলে গিয়েছিল। একটি দল ম্যাচ হারতেই পারে, কিন্তু সেখানে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা তো থাকা উচিত। তিন গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ভিয়েতনামও যেন গোল করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশ ভালো ফুটবল খেলেছে এমনটাও নয়। হারলেও অনেক সময় ম্যাচের মধ্যে কিছু ইতিবাচক দিক খুঁজে পাওয়া যায়, কিন্তু এই ম্যাচে তেমন কিছুই ছিল না। এটি একটি প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল এবং ভিয়েতনামের মতো একটি কঠিন প্রতিপক্ষকে বেছে নেওয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। তবে, এই ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা কাজে লাগিয়ে দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























