ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: বাংলাদেশে পেপাল চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার, আইটি উদ্যোক্তা এবং ই-কমার্স খাতের জন্য দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপাল’ (PayPal) চালুর বিষয়ে বড় সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, দেশে পেপালের কার্যক্রম শুরু করতে সরকার ইতিমধ্যেই অত্যন্ত কার্যকর ও জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি পেপাল চালুর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

পেপাল বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে অনলাইনে অর্থ আদান-প্রদান, বিল পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক কেনাকাটার জন্য একটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের অর্জিত অর্থ দেশে আনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছেন। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণা দেশের আইসিটি খাতের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে পেপাল বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বিশেষ করে সর্বশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এই প্রক্রিয়াটি নতুন করে গতি পায়। গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন যে, ফ্রিল্যান্সার ও আইটি খাতের সহজ লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পেপালকে বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেই সময় পেপালের সিঙ্গাপুরভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া টিম বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করেছিল।

বর্তমানে দেশের তরুণ সমাজ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে পেপালের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে বদ্ধপরিকর। পেপাল চালু হলে দেশের ফ্রিল্যান্সাররা কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি এবং নিরাপদে তাদের পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারবেন, যা জাতীয় অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় বন্দুক হামলা, গুলিতে ১ জনের মৃত্যু

ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: বাংলাদেশে পেপাল চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০২:৩৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার, আইটি উদ্যোক্তা এবং ই-কমার্স খাতের জন্য দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপাল’ (PayPal) চালুর বিষয়ে বড় সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, দেশে পেপালের কার্যক্রম শুরু করতে সরকার ইতিমধ্যেই অত্যন্ত কার্যকর ও জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি পেপাল চালুর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

পেপাল বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে অনলাইনে অর্থ আদান-প্রদান, বিল পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক কেনাকাটার জন্য একটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের অর্জিত অর্থ দেশে আনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছেন। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণা দেশের আইসিটি খাতের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে পেপাল বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বিশেষ করে সর্বশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এই প্রক্রিয়াটি নতুন করে গতি পায়। গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন যে, ফ্রিল্যান্সার ও আইটি খাতের সহজ লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পেপালকে বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেই সময় পেপালের সিঙ্গাপুরভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া টিম বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করেছিল।

বর্তমানে দেশের তরুণ সমাজ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে পেপালের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে বদ্ধপরিকর। পেপাল চালু হলে দেশের ফ্রিল্যান্সাররা কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি এবং নিরাপদে তাদের পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারবেন, যা জাতীয় অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।