গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সরকারি প্রস্তাবকে ‘অদ্ভুত’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি বলেছেন, এটি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি মনে করেন, দীর্ঘ আলোচনার পর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন সকল রাজনৈতিক দলের জন্য জরুরি। এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলে জাতি হতাশ হবে এবং জনগণের আস্থা হারাবে।
শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ নেই) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস) বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির ও মাহবুব আলম সালেহী এমপিও উপস্থিত ছিলেন।
সাইফুল আলম খান মিলন এমপি আরও বলেন, দেশের ৬৯ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রায় দিয়েছেন। তাদের এই রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা উচিত নয়। জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক এবং তাদের রায় সংবিধান মেনেই দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংবিধান মেনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৭ বছর ধরে তারেক রহমানকে দেশের বাইরে রাখা হয়েছে। জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমদ দেশে ফিরতে পারেননি। তাই জাতির জন্য বেদনাদায়ক ইতিহাস সৃষ্টির আগেই সকলের সুমতি কামনা করেন তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সংসদীয় ফোরামের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা হবে। কারণ, বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামের পথে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, জেল, গুম, খুন এবং নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। এত ত্যাগের পরও জাতি যদি সঠিক পথে না এগোতে পারে, তবে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমা পাবে কিনা, তা অনিশ্চিত।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী একটি সংসদ এবং এর মাধ্যমে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা ভিন্ন। তিনি চান যে সংসদই জাতীয় জীবনের সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হোক। এই ক্ষেত্রে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলেরও সমান গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, সে বিষয়েও কথা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, কিছু জটিলতা রয়েছে, কারণ সরকারি দল সংখ্যায় বড়।
রিপোর্টারের নাম 
























