ঢাকা ০৩:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বিসিএস নিয়োগে নজিরবিহীন জালিয়াতি: ৬২ ক্যাডার সদস্য নিরাপত্তা সংস্থার নজরে

বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের ইতিহাসে নজিরবিহীন জালিয়াতির মাধ্যমে অন্তত ৬২ জন প্রার্থীকে বিসিএস ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মেধার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অর্থের বিনিময়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে অকৃতকার্য প্রার্থীদের সুপারিশ করেছে। এই ঘটনাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জন্য লজ্জাজনক উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন দুর্নীতি আগে কখনো দেখা যায়নি।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সম্প্রতি সংসদে জানিয়েছেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট একটি সংস্থা জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তার তথ্য সংগ্রহ করছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত জোরদার করা এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। এই কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় পিএসসির গঠিত একটি তিন সদস্যের কমিটি দীর্ঘদিনেও এই জালিয়াতি তদন্তে কার্যকর প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। নিরাপত্তা সংস্থা এই বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে এবং দুদকের তদন্ত আরও জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও এই অনিয়ম নিয়ে বিস্ময়কর নীরবতা পালন করছে।

জানা যায়, বিসিএস বিধিমালা ও পিএসসির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করে ২৯, ৩০ ও ৩১তম বিসিএসে কারসাজির মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। পিএসসির মূল সুপারিশের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন গেজেট প্রকাশ করে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়, যা সিভিল সার্ভিসের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই অবৈধ কর্মকর্তারা গত এক দশকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর ২০ বছরের প্রস্তাব ইরানের: দাবি ট্রাম্পের

বিসিএস নিয়োগে নজিরবিহীন জালিয়াতি: ৬২ ক্যাডার সদস্য নিরাপত্তা সংস্থার নজরে

আপডেট সময় : ০১:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের ইতিহাসে নজিরবিহীন জালিয়াতির মাধ্যমে অন্তত ৬২ জন প্রার্থীকে বিসিএস ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মেধার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অর্থের বিনিময়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে অকৃতকার্য প্রার্থীদের সুপারিশ করেছে। এই ঘটনাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জন্য লজ্জাজনক উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন দুর্নীতি আগে কখনো দেখা যায়নি।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সম্প্রতি সংসদে জানিয়েছেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট একটি সংস্থা জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তার তথ্য সংগ্রহ করছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত জোরদার করা এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। এই কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় পিএসসির গঠিত একটি তিন সদস্যের কমিটি দীর্ঘদিনেও এই জালিয়াতি তদন্তে কার্যকর প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। নিরাপত্তা সংস্থা এই বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে এবং দুদকের তদন্ত আরও জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও এই অনিয়ম নিয়ে বিস্ময়কর নীরবতা পালন করছে।

জানা যায়, বিসিএস বিধিমালা ও পিএসসির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করে ২৯, ৩০ ও ৩১তম বিসিএসে কারসাজির মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। পিএসসির মূল সুপারিশের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন গেজেট প্রকাশ করে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়, যা সিভিল সার্ভিসের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই অবৈধ কর্মকর্তারা গত এক দশকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।