ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামি সাংবাদিকতা: সত্যতা, ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতার নীতি

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং জনমত গঠন ও সমাজ পরিবর্তনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। তবে নৈতিকতাহীন সাংবাদিকতা সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে। ইসলাম সাংবাদিকতাকে একটি পবিত্র দায়িত্ব বা ‘আমানত’ হিসেবে গণ্য করে, যার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য পরকালে জবাবদিহি করতে হবে।

ইসলামি সাংবাদিকতার প্রধান স্তম্ভ হলো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা। কোনো সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গে তা প্রচার করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন: ‘হে মুমিনরা! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, যেন অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি না করো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ৬)। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন: ‘কোনো ব্যক্তি মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে (যাচাই না করে) তা-ই বর্ণনা করে।’ (সহিহ মুসলিম)।

ইসলামি সাংবাদিকতার নৈতিক ভিত্তি হলো নিরপেক্ষতা ও ন্যায়নিষ্ঠা। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা রাজনৈতিক মতাদর্শ যেন সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতাকে ক্ষুণ্ণ না করে, সে বিষয়ে কোরআন বলছে: ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ইনসাফ না করার দিকে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটাই তাকওয়ার নিকটবর্তী।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৮)। সাংবাদিককে অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করে সত্য কথা বলতে হবে।

বর্তমান সাংবাদিকতায় অনেক সময় অন্যের ব্যক্তিগত দোষত্রুটি খুঁজে বের করাকে কৃতিত্ব মনে করা হয়, কিন্তু ইসলাম একে ঘৃণা করে। আল্লাহ বলেন: ‘তোমরা একে অন্যের ছিদ্রান্বেষণ করো না এবং একে অন্যের গিবত (পরনিন্দা) করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে?’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১২)। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (সহিহ বুখারি)। সংবাদমাধ্যমকে সমাজ থেকে অশ্লীলতা দূর করতে হবে এবং কুরুচিপূর্ণ ছবি বা সংবাদ প্রচারের ভয়াবহতা সম্পর্কে কোরআন সতর্ক করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর ২০ বছরের প্রস্তাব ইরানের: দাবি ট্রাম্পের

ইসলামি সাংবাদিকতা: সত্যতা, ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতার নীতি

আপডেট সময় : ০১:৫০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং জনমত গঠন ও সমাজ পরিবর্তনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। তবে নৈতিকতাহীন সাংবাদিকতা সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে। ইসলাম সাংবাদিকতাকে একটি পবিত্র দায়িত্ব বা ‘আমানত’ হিসেবে গণ্য করে, যার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য পরকালে জবাবদিহি করতে হবে।

ইসলামি সাংবাদিকতার প্রধান স্তম্ভ হলো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা। কোনো সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গে তা প্রচার করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন: ‘হে মুমিনরা! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, যেন অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি না করো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ৬)। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন: ‘কোনো ব্যক্তি মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে (যাচাই না করে) তা-ই বর্ণনা করে।’ (সহিহ মুসলিম)।

ইসলামি সাংবাদিকতার নৈতিক ভিত্তি হলো নিরপেক্ষতা ও ন্যায়নিষ্ঠা। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা রাজনৈতিক মতাদর্শ যেন সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতাকে ক্ষুণ্ণ না করে, সে বিষয়ে কোরআন বলছে: ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ইনসাফ না করার দিকে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটাই তাকওয়ার নিকটবর্তী।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৮)। সাংবাদিককে অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করে সত্য কথা বলতে হবে।

বর্তমান সাংবাদিকতায় অনেক সময় অন্যের ব্যক্তিগত দোষত্রুটি খুঁজে বের করাকে কৃতিত্ব মনে করা হয়, কিন্তু ইসলাম একে ঘৃণা করে। আল্লাহ বলেন: ‘তোমরা একে অন্যের ছিদ্রান্বেষণ করো না এবং একে অন্যের গিবত (পরনিন্দা) করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে?’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১২)। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (সহিহ বুখারি)। সংবাদমাধ্যমকে সমাজ থেকে অশ্লীলতা দূর করতে হবে এবং কুরুচিপূর্ণ ছবি বা সংবাদ প্রচারের ভয়াবহতা সম্পর্কে কোরআন সতর্ক করেছে।