ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

তদন্তের মুখে আওয়ামী লীগ আমলের সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ সদস্যের নিয়োগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে ৯ হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই বিশাল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জন উপপরিদর্শক (এসআই) এবং ৮ হাজারেরও বেশি কনস্টেবল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সরাসরি নেতাকর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ সদর দপ্তর ইতিমধ্যে এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বিগত সরকারের ১৫ বছরে জেলা কোটা পদ্ধতি চরমভাবে লঙ্ঘন করে এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এই নিয়োগগুলো সম্পন্ন করা হয়েছিল। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ, বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দাদের এই নিয়োগে নজিরবিহীন প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরকে এসব বিষয় নিবিড়ভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, তবে একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যেন তদন্তের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের জালিয়াতি করার সাহস না পায়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় বৈঠকেই তিনি এই তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে কোনো ধরনের অসংগতি বা জালিয়াতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৩৩তম থেকে ৪০তম ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়েছিল, যার মধ্যে আটটি ব্যাচেই জেলা কোটা মানা হয়নি। পরিসংখ্যান বলছে, ৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগে গোপালগঞ্জ জেলা থেকে নির্ধারিত কোটার চেয়ে বহুগুণ বেশি (২৩২ জন), ফরিদপুর থেকে ১৮৭ জন এবং মাদারীপুর থেকে ১৩৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া ১ হাজার ২১৭ জনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬৫ জন শিক্ষার্থীর নিয়োগ নিয়েও জনশ্রুতি ও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে অন্য জেলার প্রায় ১ হাজার ব্যক্তিকে ঢাকার ধামরাই উপজেলার ভুয়া স্থায়ী বাসিন্দা সাজিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়ার একটি শক্তিশালী চক্র পুলিশের ভেতরেই সক্রিয় ছিল। সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম নিশ্চিত করেছেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা অনুযায়ী ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশের মাধ্যমে দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর, যা মূলত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) নিয়োগের বৈধতা যাচাই করবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

তদন্তের মুখে আওয়ামী লীগ আমলের সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ সদস্যের নিয়োগ

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে ৯ হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই বিশাল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জন উপপরিদর্শক (এসআই) এবং ৮ হাজারেরও বেশি কনস্টেবল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সরাসরি নেতাকর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ সদর দপ্তর ইতিমধ্যে এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বিগত সরকারের ১৫ বছরে জেলা কোটা পদ্ধতি চরমভাবে লঙ্ঘন করে এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এই নিয়োগগুলো সম্পন্ন করা হয়েছিল। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ, বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দাদের এই নিয়োগে নজিরবিহীন প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরকে এসব বিষয় নিবিড়ভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, তবে একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যেন তদন্তের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের জালিয়াতি করার সাহস না পায়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় বৈঠকেই তিনি এই তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে কোনো ধরনের অসংগতি বা জালিয়াতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৩৩তম থেকে ৪০তম ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়েছিল, যার মধ্যে আটটি ব্যাচেই জেলা কোটা মানা হয়নি। পরিসংখ্যান বলছে, ৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগে গোপালগঞ্জ জেলা থেকে নির্ধারিত কোটার চেয়ে বহুগুণ বেশি (২৩২ জন), ফরিদপুর থেকে ১৮৭ জন এবং মাদারীপুর থেকে ১৩৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া ১ হাজার ২১৭ জনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬৫ জন শিক্ষার্থীর নিয়োগ নিয়েও জনশ্রুতি ও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে অন্য জেলার প্রায় ১ হাজার ব্যক্তিকে ঢাকার ধামরাই উপজেলার ভুয়া স্থায়ী বাসিন্দা সাজিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়ার একটি শক্তিশালী চক্র পুলিশের ভেতরেই সক্রিয় ছিল। সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম নিশ্চিত করেছেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা অনুযায়ী ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশের মাধ্যমে দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর, যা মূলত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) নিয়োগের বৈধতা যাচাই করবে।