ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলা কৃষকদের জন্য সুখবর: পাইলট প্রকল্পের আওতায় আসছে কৃষক কার্ড

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার কৃষকরাও কৃষক কার্ড পাচ্ছেন। দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার সঙ্গে এই সুবিধা পাবে জুড়ি উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা, যা তাদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করেছে।

এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় সরকার প্রথম দফায় ২১ হাজার ৫০০ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের ৮৩৪ জন কৃষক এই কার্ডের সুবিধাভোগী হবেন। মূলত ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা বছরে নগদ অর্থ প্রণোদনা হিসেবে পাবেন এবং তা তাদের কৃষি কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। এই কার্ড ব্যবহার করে কৃষকরা মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি উপকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রণোদনা লাভ করবেন, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করবে।

মৌলভীবাজার জেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৯৪ হেক্টর। এর মধ্যে প্রায় ৯৩ হাজার ৫৯৬ হেক্টর জমি বছরজুড়ে পতিত থাকে। যদিও বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন হয়, তবুও পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩৪ হাজার ৩৯৮ হেক্টর জমি চাষের আওতার বাইরে থেকে যায়। এই পতিত জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় এলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ধারণা করা হচ্ছে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষকরা প্রণোদনা পেলে সকল পতিত জমি পর্যায়ক্রমে চাষাবাদের আওতায় আসবে, যা কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য লাভজনক হবে।

ফুলতলা ইউনিয়নের কৃষক মারুফ আহমেদ ও সুন্দর মিয়া এই উদ্যোগকে সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব এবং কৃষকের পাশে রয়েছে। ইতিমধ্যেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে এবং এখন এই কৃষি প্রণোদনার কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকদের আগ্রহ বাড়বে এবং তারা লাভবান হবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান।

ইসলামপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, সার, বীজসহ কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক কৃষক চাষাবাদ ছেড়ে দিয়েছেন। এছাড়া, পানির অভাবের কারণে অনেক সময় বোরো বা রবিশস্য চাষ করা সম্ভব হতো না। বর্তমান সরকার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়ায় এখন এক ফসলের জায়গায় তিন ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুবিধা কৃষকদের আরও বেশি উৎসাহিত করবে। এতে করে নিজেদের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ফসল বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে ফেন্সিডিলসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার, দল থেকে বহিষ্কার

মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলা কৃষকদের জন্য সুখবর: পাইলট প্রকল্পের আওতায় আসছে কৃষক কার্ড

আপডেট সময় : ১০:০২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার কৃষকরাও কৃষক কার্ড পাচ্ছেন। দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার সঙ্গে এই সুবিধা পাবে জুড়ি উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা, যা তাদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করেছে।

এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় সরকার প্রথম দফায় ২১ হাজার ৫০০ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের ৮৩৪ জন কৃষক এই কার্ডের সুবিধাভোগী হবেন। মূলত ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা বছরে নগদ অর্থ প্রণোদনা হিসেবে পাবেন এবং তা তাদের কৃষি কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। এই কার্ড ব্যবহার করে কৃষকরা মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি উপকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রণোদনা লাভ করবেন, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করবে।

মৌলভীবাজার জেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৯৪ হেক্টর। এর মধ্যে প্রায় ৯৩ হাজার ৫৯৬ হেক্টর জমি বছরজুড়ে পতিত থাকে। যদিও বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন হয়, তবুও পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩৪ হাজার ৩৯৮ হেক্টর জমি চাষের আওতার বাইরে থেকে যায়। এই পতিত জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় এলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ধারণা করা হচ্ছে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষকরা প্রণোদনা পেলে সকল পতিত জমি পর্যায়ক্রমে চাষাবাদের আওতায় আসবে, যা কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য লাভজনক হবে।

ফুলতলা ইউনিয়নের কৃষক মারুফ আহমেদ ও সুন্দর মিয়া এই উদ্যোগকে সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব এবং কৃষকের পাশে রয়েছে। ইতিমধ্যেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে এবং এখন এই কৃষি প্রণোদনার কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকদের আগ্রহ বাড়বে এবং তারা লাভবান হবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান।

ইসলামপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, সার, বীজসহ কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক কৃষক চাষাবাদ ছেড়ে দিয়েছেন। এছাড়া, পানির অভাবের কারণে অনেক সময় বোরো বা রবিশস্য চাষ করা সম্ভব হতো না। বর্তমান সরকার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়ায় এখন এক ফসলের জায়গায় তিন ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুবিধা কৃষকদের আরও বেশি উৎসাহিত করবে। এতে করে নিজেদের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ফসল বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে।