ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু নিশাত হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন: গণধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় খুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে ছয় বছর বয়সী স্কুল শিক্ষার্থী নিশাত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী ইছা মিয়া নামে এক ব্যক্তি গণধর্ষণের চেষ্টা করতে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধ করে নিশাতকে হত্যা করেছে। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রাম থেকে ইছা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইছা মিয়া পেশায় একজন অটোরিকশা চালক এবং পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উত্তরপাড়ার মৃত জারু মিয়ার ছেলে।

এর আগে, নিখোঁজের দুই দিন পর গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি খোলা জায়গা থেকে নিশাতের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে নিশাতের মা আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিশাত গত ১৫ এপ্রিল দোকান থেকে চিপস কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সে মোহনপুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আবু সাদেক মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের নার্সারি বিভাগের ছাত্রী ছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সচীন চাকমা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইছা মিয়া হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। ঘটনার দিন (১৫ এপ্রিল) দুপুরে মোহনপুর গ্রামের একটি স্কুলের সামনে তার সাথে নিশাতের দেখা হয়। পরে ঘুরানোর কথা বলে ইছা নিশাতকে নিয়ে নবীনগর উপজেলার রসুলপুর এলাকার একটি পার্কে যায়। সারা দিন ঘোরার পর রাত ১০টার দিকে নিশাতকে নিয়ে গ্রামে ফিরে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। ওইদিন বাড়িতে ইছা একাই ছিল, কারণ তার স্ত্রী-সন্তান শ্বশুরবাড়িতে ছিল।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ইছা মিয়ার উদ্দেশ্য ছিল রাতে নিশাতের সাথে অনৈতিক কাজ করা। এ সময় সে নিশাতের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। নিশাত তখন বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি তার মাকে বলে দেবে বলে জানায়। এই ঘটনার পর জানাজানি হওয়ার ভয়ে ইছা তার গেঞ্জি দিয়ে নিশাতের মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ১৬ তারিখ সে নিশাতের লাশ তার ঘরেই লুকিয়ে রাখে এবং পরদিন ১৭ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির পাশে খোলা জায়গায় ফেলে যায়।

মূল হোতা ইছা মিয়াকে গ্রেফতারের পর স্থানীয় লোকজন ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করে এবং হত্যাকারীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন দেশের যৌথ আয়োজনে ২০২৬ বিশ্বকাপ: ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু নিশাত হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন: গণধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় খুন

আপডেট সময় : ১০:২১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে ছয় বছর বয়সী স্কুল শিক্ষার্থী নিশাত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী ইছা মিয়া নামে এক ব্যক্তি গণধর্ষণের চেষ্টা করতে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধ করে নিশাতকে হত্যা করেছে। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রাম থেকে ইছা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইছা মিয়া পেশায় একজন অটোরিকশা চালক এবং পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উত্তরপাড়ার মৃত জারু মিয়ার ছেলে।

এর আগে, নিখোঁজের দুই দিন পর গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি খোলা জায়গা থেকে নিশাতের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে নিশাতের মা আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিশাত গত ১৫ এপ্রিল দোকান থেকে চিপস কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সে মোহনপুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আবু সাদেক মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের নার্সারি বিভাগের ছাত্রী ছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সচীন চাকমা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইছা মিয়া হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। ঘটনার দিন (১৫ এপ্রিল) দুপুরে মোহনপুর গ্রামের একটি স্কুলের সামনে তার সাথে নিশাতের দেখা হয়। পরে ঘুরানোর কথা বলে ইছা নিশাতকে নিয়ে নবীনগর উপজেলার রসুলপুর এলাকার একটি পার্কে যায়। সারা দিন ঘোরার পর রাত ১০টার দিকে নিশাতকে নিয়ে গ্রামে ফিরে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। ওইদিন বাড়িতে ইছা একাই ছিল, কারণ তার স্ত্রী-সন্তান শ্বশুরবাড়িতে ছিল।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ইছা মিয়ার উদ্দেশ্য ছিল রাতে নিশাতের সাথে অনৈতিক কাজ করা। এ সময় সে নিশাতের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। নিশাত তখন বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি তার মাকে বলে দেবে বলে জানায়। এই ঘটনার পর জানাজানি হওয়ার ভয়ে ইছা তার গেঞ্জি দিয়ে নিশাতের মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ১৬ তারিখ সে নিশাতের লাশ তার ঘরেই লুকিয়ে রাখে এবং পরদিন ১৭ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির পাশে খোলা জায়গায় ফেলে যায়।

মূল হোতা ইছা মিয়াকে গ্রেফতারের পর স্থানীয় লোকজন ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করে এবং হত্যাকারীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।