ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে পরিবারের সঙ্গে কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন আয়েশা আক্তার। স্বামী ও সন্তানদের সাথে তোলা সেই ছবিটিই এখন তার পরিবারের শেষ স্মৃতি। পদ্মার বুকে মর্মান্তিক বাসডুবির ঘটনা কেড়ে নিয়েছে আয়েশা আক্তার ও তার সাত মাসের শিশু পুত্র আর্শানের জীবন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া স্বামী নুরুজ্জামান বিশ্বাস ও তাদের চার বছরের কন্যা মাওয়া এখন শোকে মুহ্যমান। তারা সৌভাগ্যক্রমে সেদিন বাস থেকে আগেই নেমে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান।
স্বজনরা জানান, পরিবারটি অত্যন্ত হাসিখুশি ছিল। সদ্যোজাত শিশু আর্শানকে নিয়ে তারা গ্রামের বাড়িতে এসেছিল ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। কিন্তু সেই আনন্দই তাদের জীবনে নেমে এনেছে বিষাদের কালো ছায়া। বুধবার বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরী ঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৪০ জন যাত্রীসহ পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এতে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়শা আক্তার সুমা (৩০) ও শিশু পুত্র আর্শান জামান (৭ মাস) মর্মান্তিকভাবে মারা যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঈদ উদযাপন শেষে বুধবার তারা কর্মস্থল ঢাকার আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাসটিতে তারা কুমারখালী থেকে উঠেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী রনি জানান, ডুবুরিরা রাত ২টার দিকে আয়শা আক্তার সুমা এবং রাত ৩টার দিকে আর্শানের লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের লাশ আশুলিয়ার নয়ার হাটে আয়শার বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। নিহত আয়শা আক্তার সুমা পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন এবং সাভারের সিআরপি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে, যাদের অধিকাংশই রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার সাথে জড়িত বাসচালক আরমান খান (৩১)ও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























