বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিবপুর গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত আমির হামজা মুন্সী (২৪) শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সীর ছেলে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পরিবারসহ খুলনার লবণচোরা এলাকার জিন্না পাড়ায় বসবাস করলেও, সম্প্রতি ঈদ উদযাপনের জন্য তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রমতে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা ছয়জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আমির হামজার বাড়ির সামনে এসে মোটরসাইকেল রেখে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে আমির হামজা বাড়ির ছাদ থেকে পাশের খালে লাফ দেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে পরিবারের লোকজন এসে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের চাচা জানান, অনেক দিন পর ঈদে একসঙ্গে থাকার জন্য তিনি আমির হামজাকে বাড়িতে এনেছিলেন, কিন্তু এমন ঘটনা ঘটবে তা তারা ভাবতেও পারেননি। নিহতের স্ত্রী তন্নী আক্তার (১৭) জানান, তাদের বিয়ের বয়স মাত্র দুই মাস। তিনি আরও জানান, তার স্বামী খুলনার সুন্দরবন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, আমির হামজা স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন এবং কলেজ ছাত্রদলের আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























