কুমিল্লায় ভয়াবহ ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১২ জনের প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার রাতে মামলার প্রধান আসামি হেলাল উদ্দিন এবং পরদিন বুধবার রাতে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর এলাকা থেকে কাউসার নামক অপর এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীমউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ওসি জসীমউদ্দিন জানান, ঘটনার দিন ঈদের ছুটিতে গেইটে দায়িত্বপ্রাপ্ত গেইটম্যান হেলাল উদ্দিন এবং মেহেদী হাসান তাদের দায়িত্ব পালন করেননি। তারা এক হাজার টাকার বিনিময়ে অস্থায়ী গেইটম্যান কাউসার এবং স্থায়ী গেইটম্যান নাজমুলকে সেই রাতে দায়িত্ব পালনের জন্য ঠিক করেন, যাদের সেদিন ডিউটি করার কথা ছিল না।
তিনি আরও জানান, কাউসার এবং নাজমুল পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ের গেইটম্যানের কক্ষে উপস্থিত থাকলেও ঢাকা মেইল ট্রেনটি রাত পৌনে ৩টায় আসার আগে তারা গেইট বন্ধ করতে ব্যর্থ হন। কেন তারা এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেননি, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
এছাড়াও, পদুয়ার বাজার রেলওয়ে লেভেলক্রসিংয়ের গেইটম্যানের কক্ষে মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ওসি জসীম উদ্দিন উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গেইটম্যানরা পূর্ববর্তী স্টেশন থেকে প্রয়োজনীয় সিগন্যাল পেয়েছিলেন কিনা, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার আরেক আসামি, স্থায়ী গেইটম্যান মেহেদী হাসান এখনও পলাতক রয়েছেন। প্রধান আসামি হেলাল উদ্দিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত সোমবার আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার বাদী হয়ে পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ের গেইটম্যান হেলাল উদ্দিন ও ওয়েম্যান মেহেদী হাসানকে আসামি করে লাকসাম রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। নিহত সোহেল রানার খালা শেফালী আক্তারের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে।
গত ২১ মার্চ শনিবার রাত প্রায় ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি ওই ক্রসিং পার হওয়ার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়ে। এতে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এই ঘটনায় মোট ১২ জন নিহত এবং আটজন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর পদুয়ার বাজার এলাকার রেলের গেইটের দুই কর্মচারী হেলাল ও মেহেদীকে বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং ঘটনা তদন্তে তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী এবং আহত যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেন আসার সময় লেভেল ক্রসিংয়ের গেইট সময়মতো বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন গেইটম্যানরা, যার ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
রিপোর্টারের নাম 

























