লাঠিতে কলার মোচার লাল পাপড়ি (খোল) ঝুলিয়ে এক সাধারণ শ্রমিক ঘুমন্ত ট্রেনযাত্রীদের জীবন বাঁচিয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলওয়ের মধ্যবর্তী ৩৫২/৫ থেকে ৩৫২/৬ কিলোমিটার অংশে পূর্ব চণ্ডীপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, সোমবার সকালে পূর্ব চণ্ডীপুর গ্রামের এনামুল হক নামের এক শ্রমিক রেললাইনে হাঁটছিলেন। এ সময় তিনি পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী-ঢাকা-খুলনা-রাজশাহীগামী রেলপথের ওই স্থানে রেললাইনের প্রায় এক ফুট অংশ ভাঙা দেখতে পান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের লোকজনকে ডেকে রেলওয়ের অফিসে ফোন দেওয়ার কথা বলেন, কারণ এই ব্যস্ততম পথে যেকোনো সময় ট্রেন চলে আসতে পারে। ইতিমধ্যে বিরামপুর স্টেশন থেকে ফুলবাড়ী স্টেশনের দিকে একটি ট্রেন আসতে দেখে এনামুল দ্রুত একটি কলার মোচার লাল পাপড়ি (খোল) এনে লাঠিতে বেঁধে রেললাইনে দাঁড়িয়ে সংকেত দিতে শুরু করেন।
এনামুল হক সংকেত দেওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই স্থানে চলে আসে এবং সংকেত পেয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এর ফলে শত শত ট্রেনযাত্রী এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায়। এনামুল হকের ডাকে সাড়া দিয়ে গ্রামের আরও কয়েকজন রেলওয়ে অফিসে খবর দেন। প্রায় আধ ঘণ্টা পর রেলওয়ের প্রকৌশলী দল ও শ্রমিকেরা এসে বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করেন এবং পরে রেললাইন মেরামত সম্পন্ন হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার পর এনামুল হক কাজের সন্ধানে ফরিদপুর জেলার উদ্দেশে চলে গেছেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনামুল হক দ্রুত রেললাইন ভাঙার বিষয়টি জানানোর পর একজন রেল কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে রেলওয়ের লোকজন এসে ভেঙে যাওয়া স্থানে আটকে থাকা ট্রেনটিকে কাঠ দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় পার করে দেন এবং পরবর্তীতে লাইন পরিবর্তন করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। ফুলবাড়ী রেল স্টেশন মাস্টার শওকত আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























