বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে পাওনা টাকা আদায় নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠক চলাকালীন বিএনপি নেতার হামলায় খোরশেদ আলম সিকদার (৫৭) নামে এক ট্যানারি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।
রোববার (তারিখ) বিকেলে মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার চরহোগলা এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারকে দল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। পৌর বিএনপির সদস্যসচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দিনু মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত খোরশেদ আলম সিকদার চরহোগলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং ঢাকায় ট্যানারি শ্রমিকের কাজ করতেন।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, নিহত খোরশেদ আলমের কাছে নির্মাণকাজের বকেয়া টাকা পেতেন ঠিকাদার রাজমিস্ত্রি বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর। রোববার বেলা ৩টার দিকে এ পাওনা টাকা নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সালিশ চলাকালীন বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর ও তার লোকজন খোরশেদ আলমকে বেধড়ক মারধর করে আহত করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় খোরশেদ আলমের পরিবারের আরও চারজন সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ রিয়াজ শাহিন লিটন ও সদস্যসচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দিনু মিয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ২২ বছর আগের পাওনা টাকা নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে হাতাহাতির ঘটনায় একজন মারা গেছেন। নিহত খোরশেদ আলমের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























