ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণের জন্য নয়: ডা. শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, বর্তমানে কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেওয়া হলেও সংবিধানে ২০২৬ সালে নির্বাচনের কোনো উল্লেখ ছিল না। একইভাবে, একটি দল সরকার গঠন করবে এবং অন্যটি প্রধান বিরোধী দল হবে – এমন বিধানও সংবিধানে ছিল না। এটি সম্ভব হয়েছে জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের ফলেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণ সংবিধানের জন্য নয়।

রোববার (তারিখ) বিকেলে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও চরিত্রগত সম্পদের অভাবে আমরা কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে পারছি না। অথচ, দেশের সন্তানেরা বিশ্বজুড়ে তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। আমরা মেধাবীদের জাতির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

বিএনপির উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অনেক রাজনৈতিক নেতা মনে করতেন নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশে স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া এবং একটি দল সরকার গঠন করা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা আসেনি। সমাজ থেকে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসা দূর হয়নি।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত সরকারের আমলেই মব সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিদায় নিতে হয়েছিল। প্রথমবারের মতো দলীয় বিবেচনায় একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে গভর্নরের পদে বসানো হয়েছে। একইভাবে, দেড় বছর ধরে কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-প্রোভিসিদের দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিদায় করতে বাধ্য করা হয়েছে, যা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশার পরিপন্থী। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং চরম অব্যবস্থাপনা দেখে জাতি হতাশ হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারি দলকে মনে রাখতে হবে, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তারাও মজলুম ছিলেন। তাই, সংস্কার প্রস্তাব এড়িয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। নির্বাচনি ফলাফল আমরা মেনে নিয়েছি, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসো হে বৈশাখ: নতুন সূর্যের আলোয় বর্ণিল বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩

সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণের জন্য নয়: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ১২:৩৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, বর্তমানে কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেওয়া হলেও সংবিধানে ২০২৬ সালে নির্বাচনের কোনো উল্লেখ ছিল না। একইভাবে, একটি দল সরকার গঠন করবে এবং অন্যটি প্রধান বিরোধী দল হবে – এমন বিধানও সংবিধানে ছিল না। এটি সম্ভব হয়েছে জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের ফলেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণ সংবিধানের জন্য নয়।

রোববার (তারিখ) বিকেলে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও চরিত্রগত সম্পদের অভাবে আমরা কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে পারছি না। অথচ, দেশের সন্তানেরা বিশ্বজুড়ে তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। আমরা মেধাবীদের জাতির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

বিএনপির উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অনেক রাজনৈতিক নেতা মনে করতেন নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশে স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া এবং একটি দল সরকার গঠন করা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা আসেনি। সমাজ থেকে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসা দূর হয়নি।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত সরকারের আমলেই মব সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিদায় নিতে হয়েছিল। প্রথমবারের মতো দলীয় বিবেচনায় একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে গভর্নরের পদে বসানো হয়েছে। একইভাবে, দেড় বছর ধরে কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-প্রোভিসিদের দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিদায় করতে বাধ্য করা হয়েছে, যা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশার পরিপন্থী। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং চরম অব্যবস্থাপনা দেখে জাতি হতাশ হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারি দলকে মনে রাখতে হবে, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তারাও মজলুম ছিলেন। তাই, সংস্কার প্রস্তাব এড়িয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। নির্বাচনি ফলাফল আমরা মেনে নিয়েছি, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরা হয়েছে।