পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার সকাল থেকেই দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। লোনা জলের মিতালি আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের দিন সকালে পর্যটকদের আগমন শুরু হলেও দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে সৈকতে উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। তবে সন্ধ্যার পর থেকে চিত্র বদলাতে শুরু করে। সৈকতের জিরো পয়েন্ট, তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুঁটকিপল্লি, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, মিনি সুইজারল্যান্ড, রাখাইন মার্কেটসহ প্রতিটি স্পটে এখন পর্যটকদের ভিড়।
অনেকে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে জলকেলিতে মেতেছেন, কেউ ঘোড়ার পিঠে বা স্পিডবোটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ছাতার নিচে বসে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখার ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘদিন পর্যটকের চাপ না থাকায় কুয়াকাটা সৈকত এখন তার প্রাকৃতিক রূপে সেজেছে। বালুচরে লাল কাঁকড়া ও অতিথি পাখির বিচরণ, লতাগুল্মের বিস্তার আর নতুন ফুলের সমাহার সৈকতে এক নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করেছে।
শীতের বিদায় আর বর্ষার আবহে উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ ও জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আমিন হাফিজ বলেন, ‘পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটি কাটাতে কুয়াকাটায় এসেছি। আবহাওয়া এখন বেশ অনুকূলে, তাই ঘুরে খুব শান্তি পাচ্ছি।’ আরেক পর্যটক কেয়া মনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, সমুদ্রের ঢেউ আর খোলা হাওয়া— সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দটা এখানে পূর্ণতা পেয়েছে।
রমজান মাসজুড়ে পর্যটকশূন্য থাকা কুয়াকাটা ঈদের ছুটিতে প্রাণ ফিরে পাওয়ায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। অধিকাংশ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট এখন প্রায় ৯০ শতাংশ বুকিং। পর্যটকদের বাড়তি ভিড় সামলাতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আবাসিক হোটেল সারোয়ার প্যারাডাইসের জেনারেল ম্যানেজার রিপন সাব্বির বলেন, ‘দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকদের এমন উপস্থিতি আমাদের ব্যবসায় নতুন গতি এনেছে। আশা করছি সামনের দিনগুলোতেও এই ধারা বজায় থাকবে।’ হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং রয়েছে। পর্যটকদের এই উপস্থিতিতে দীর্ঘদিনে…’
রিপোর্টারের নাম 

























