ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

ছুটির দিনে সোশ্যাল মিডিয়া: আনন্দ নাকি মানসিক চাপ?

দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা সোশ্যাল মিডিয়া, যেমন – বন্ধুদের আপডেট দেখা, ছবি শেয়ার করা বা নতুন কনটেন্ট উপভোগ করা, ছুটির দিনে অবসর কাটানোর ক্ষেত্রে সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে না। বরং, সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা ছুটির দিনের আনন্দকে ম্লান করে দিতে পারে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিং রিসার্চ সেন্টারের একটি গবেষণা ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’-এর অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ইনস্টাগ্রাম, এক্স (পূর্বের টুইটার) এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলকভাবে ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত অনেক কনটেন্ট ব্যবহারকারীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়।

অন্যদিকে, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে কম পড়ে। এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে, এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বেশি হয়, যা মানুষকে সামাজিকভাবে সংযুক্ত রাখে এবং একাকিত্ব কমাতে সাহায্য করে।

ইনস্টাগ্রাম, এক্স এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রায়শই তুলনামূলকভাবে উন্নত জীবনধারা, বাহ্যিক সৌন্দর্য বা অতিরিক্ত নিখুঁত জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হয়। এর ফলে ব্যবহারকারীরা প্রায়শই নিজেদের জীবনের সঙ্গে অন্যদের তুলনা করতে শুরু করেন, যা তাদের আত্মসম্মান কমিয়ে দিতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারের ফলে মানুষের মধ্যে আনন্দের মাত্রা কমে যায় এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

এই গবেষণাটি লাতিন আমেরিকার প্রায় ১৭টি দেশে পরিচালিত হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, ইনফ্লুয়েন্সার-নির্ভর কনটেন্টের আধিক্য ব্যবহারকারীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। অনেকেই এই ধরনের কনটেন্ট দেখে নিজেদের জীবনকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে শুরু করেন। এর ফলে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

বর্তমান সময়ে ‘ডুম স্ক্রলিং’ একটি পরিচিত শব্দ। একটানা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করতে করতে আমরা অজান্তেই অনেক নেতিবাচক তথ্য ও কনটেন্টের মুখোমুখি হই। এতে মস্তিষ্কে এক ধরনের ক্লান্তি তৈরি হয়, যাকে অনেকেই ‘ব্রেন ফগ’ বা মানসিক অবসাদ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই বিষয়টি ছুটির দিনেও আমাদের মানসিক শান্তিতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: বাম ভোটারদের সমর্থনে বিজেপির অপ্রত্যাশিত জয়?

ছুটির দিনে সোশ্যাল মিডিয়া: আনন্দ নাকি মানসিক চাপ?

আপডেট সময় : ০২:১৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা সোশ্যাল মিডিয়া, যেমন – বন্ধুদের আপডেট দেখা, ছবি শেয়ার করা বা নতুন কনটেন্ট উপভোগ করা, ছুটির দিনে অবসর কাটানোর ক্ষেত্রে সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে না। বরং, সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা ছুটির দিনের আনন্দকে ম্লান করে দিতে পারে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিং রিসার্চ সেন্টারের একটি গবেষণা ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’-এর অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ইনস্টাগ্রাম, এক্স (পূর্বের টুইটার) এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলকভাবে ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত অনেক কনটেন্ট ব্যবহারকারীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়।

অন্যদিকে, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে কম পড়ে। এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে, এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বেশি হয়, যা মানুষকে সামাজিকভাবে সংযুক্ত রাখে এবং একাকিত্ব কমাতে সাহায্য করে।

ইনস্টাগ্রাম, এক্স এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রায়শই তুলনামূলকভাবে উন্নত জীবনধারা, বাহ্যিক সৌন্দর্য বা অতিরিক্ত নিখুঁত জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হয়। এর ফলে ব্যবহারকারীরা প্রায়শই নিজেদের জীবনের সঙ্গে অন্যদের তুলনা করতে শুরু করেন, যা তাদের আত্মসম্মান কমিয়ে দিতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারের ফলে মানুষের মধ্যে আনন্দের মাত্রা কমে যায় এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

এই গবেষণাটি লাতিন আমেরিকার প্রায় ১৭টি দেশে পরিচালিত হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, ইনফ্লুয়েন্সার-নির্ভর কনটেন্টের আধিক্য ব্যবহারকারীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। অনেকেই এই ধরনের কনটেন্ট দেখে নিজেদের জীবনকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে শুরু করেন। এর ফলে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

বর্তমান সময়ে ‘ডুম স্ক্রলিং’ একটি পরিচিত শব্দ। একটানা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করতে করতে আমরা অজান্তেই অনেক নেতিবাচক তথ্য ও কনটেন্টের মুখোমুখি হই। এতে মস্তিষ্কে এক ধরনের ক্লান্তি তৈরি হয়, যাকে অনেকেই ‘ব্রেন ফগ’ বা মানসিক অবসাদ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই বিষয়টি ছুটির দিনেও আমাদের মানসিক শান্তিতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।