ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটি এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
আসক এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে, কোনো ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে কিংবা চোরাচালান বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের সুযোগ রয়েছে। বিচারবহির্ভূতভাবে সরাসরি গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালা অনুযায়ী জীবন রক্ষার বাধ্যবাধকতা সর্বাগ্রে বিবেচিত হওয়া উচিত। পৃথিবীর বহু দেশে সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগকে সাধারণ বা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে দেখা হয় না।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ ও হতাহতের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই একটি উদ্বেগজনক মানবাধিকার সংকট হিসেবে বিদ্যমান। সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বারবার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে গুলি ও প্রাণহানির ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না, যা গভীর উদ্বেগের কারণ।
আসক বাংলাদেশ সরকারকে দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় সীমান্ত হত্যা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত এবং মানবাধিকারসম্মত আচরণ নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতের মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর প্রতিও আসক আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন সীমান্তে সরাসরি গুলি করে হত্যার মতো অমানবিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগ বন্ধে নিজ নিজ সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ ও জনমত তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের স্বার্থে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হওয়া জরুরি বলে মনে করে আসক।
রিপোর্টারের নাম 



















