পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বামপন্থি ভোটারদের কৌশলগত সমর্থন। আপাতদৃষ্টিতে বিপরীত আদর্শের হলেও, তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বাম ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিকল্পিতভাবে ‘পদ্ম’ শিবিরে ভোট দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে এই কৌশল এখন ‘এবার রাম, পরে বাম’ স্লোগান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
ভবানীপুর আসনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি তার বিজয় ভাষণে বলেন, ‘ভবানীপুরে সিপিএমের ১৩ হাজার ভোট ছিল, যার মধ্যে অন্তত ১০ হাজার ভোট আমার বাক্সে এসেছে। আমি সিপিএম ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ উত্তর ব্যারাকপুরের সিপিএম কর্মী সঞ্জিত রায় সরাসরিই বলেছেন, ‘আমাদের দল এখন অতটা শক্তিশালী নয়। তাই তৃণমূলকে হঠাতে আমাদের সমর্থকেরা বিজেপিকেই ভোট দিয়েছেন।’
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর তৃণমূলের হাতে বাম কর্মীদের ওপর যে ব্যাপক নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটেছিল, তা-ই বাম সমর্থকদের বিজেপির দিকে ঠেলে দেয়। সে সময় ঘরছাড়া ও কোণঠাসা বাম কর্মীরা বিজেপিকে এক ধরনের বাঁচার পথ হিসেবে গ্রহণ করেন।
২০১১ সালে ৩৪ বছরের শাসনের অবসানের সময়ও সিপিএমের ভোট শেয়ার ছিল ৪১.০৯ শতাংশ। সাম্প্রতিক নির্বাচনে তা ৪.৪ শতাংশে নেমে আসে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রথমবার বামেরা কোনো আসন না পেলেও বিজেপির আসন ২ থেকে বেড়ে ১৮ হয় এবং ভোট শেয়ার ১৭ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বামেদের হারানো ২২ শতাংশ ভোট পুনরুদ্ধার করতে না পারা এবং সেই ভোট বিজেপির ঝুলিতে যাওয়াই আজ গেরুয়া শিবিরের এই জয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।
২০১১ সাল থেকে তৃণমূলের শাসনামলে বাম কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং দলীয় কার্যালয় দখলের ফলে তারা অস্তিত্ব সংকটে ভোগেন। তাদের চোখে তৃণমূলই ছিল প্রধান শত্রু। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিয়াজ এবং অন্যান্য বিশ্লেষকদের মতে, যখন বামপন্থিরা রাজপথে তৃণমূলের মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হচ্ছিল, তখন হিন্দু বাম ভোটাররা বিজেপিকেই একমাত্র শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে বেছে নেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর (সিএপিএফ) ব্যাপক মোতায়েন বাম ভোটারদের ভয়হীনভাবে ভোট দিতে সাহায্য করেছে। তারা বিশ্বাস করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের ‘ভয়ের রাজত্ব’ শেষ হবে।
রিপোর্টারের নাম 























