ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মাতৃত্বের আবেগঘন গল্প শোনালেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা, ভূষিত হলেন ‘মা পদকে’

মা দিবসে বিশেষ সম্মাননা ‘মা পদক’ গ্রহণ করে নিজের জীবনের সংগ্রাম, একাকিত্ব এবং মাতৃত্বের অনুভূতি নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। তিনি বলেন, “একটি নারীর পূর্ণতা আসে তার মাতৃত্ব দিয়ে। সন্তান একজন মায়ের জীবনে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।”

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘মা পদক’ অনুষ্ঠানে বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত এই সম্মাননা ববিতার হাতে তুলে দেন। এই আয়োজনে ববিতা ছাড়াও অভিনেতা আহসান হাবিব নাসিম, নাজনিন হাসান চুমকি, সংগীতশিল্পী রাশেদ, অভিনেত্রী হিমি, উপস্থাপিকা ফারহানা ন্যান্সিসহ মোট ১২ জন গুণী ব্যক্তির মায়েদেরও ‘মা পদক’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে ববিতা জানান, তার মা ছিলেন একজন চিকিৎসক। মায়ের মৃত্যুর পর বড় বোন সুচন্দা ছোট ভাইবোনদের আগলে রেখেছিলেন। এরপর স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে তিনি কাজ করে গেছেন নিরন্তর।

কর্মজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেই মা হন ববিতা। তার ছেলে অনিককে ঘিরেই আবর্তিত হতে থাকে জীবনের নতুন অধ্যায়। তিনি বলেন, “চলচ্চিত্রে তখন আমি খুব ব্যস্ত ছিলাম। তারপরেও আমার হৃদয়জুড়ে সবসময় অনিক ছিল। তার যত্ন, তার সবকিছু আমি নিজেই দেখতাম।”

অনিক ছোটবেলাতেই পিতৃহারা হন। এরপর একাই সন্তানের মা ও বাবার দায়িত্ব পালন করেন এই অভিনেত্রী। ববিতার ভাষায়, “আমি একজন সিঙ্গেল পেরেন্ট হিসেবে অনিকের মা এবং বাবা—দুই ভূমিকাই পালন করেছি।”

পরে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে তার ছেলে কানাডায় চলে যান। সেই সময়টাকে জীবনের সবচেয়ে শূন্য অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে ববিতা বলেন, “আমার পৃথিবী তখন শুধুই শূন্যতা। পরে আমি ছুটে যাই কানাডায়।”

স্বামী হারানোর পর জীবনে নতুন করে সংসার গড়ার সুযোগ এলেও তিনি নিজেকে পুরোপুরি সন্তানের মাঝেই ডুবিয়ে রেখেছিলেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “অনিক পিতৃহারা হওয়ার পর আমার জীবনে অনেকেই আসতে চেয়েছিলেন। পরিবারেরও সম্মতি ছিল। কিন্তু আমি শুধু আমার সন্তানের মাঝেই মিশে গেলাম।”

বর্তমানে তার ছেলে কানাডার একটি বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছেন। সন্তানের সাফল্য নিয়েই এখন জীবনের সবচেয়ে বড় শান্তি খুঁজে পান এই অভিনেত্রী। ববিতা বলেন, “আমার সন্তানই আমাকে জীবনে চলার পথের আলো দেখিয়েছে। বাকি জীবন আমি আমার সন্তানের ভালোবাসা নিয়েই কাটিয়ে দিতে চাই।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মদ পান করে কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে, একজন আটক

মাতৃত্বের আবেগঘন গল্প শোনালেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা, ভূষিত হলেন ‘মা পদকে’

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মা দিবসে বিশেষ সম্মাননা ‘মা পদক’ গ্রহণ করে নিজের জীবনের সংগ্রাম, একাকিত্ব এবং মাতৃত্বের অনুভূতি নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। তিনি বলেন, “একটি নারীর পূর্ণতা আসে তার মাতৃত্ব দিয়ে। সন্তান একজন মায়ের জীবনে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।”

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘মা পদক’ অনুষ্ঠানে বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত এই সম্মাননা ববিতার হাতে তুলে দেন। এই আয়োজনে ববিতা ছাড়াও অভিনেতা আহসান হাবিব নাসিম, নাজনিন হাসান চুমকি, সংগীতশিল্পী রাশেদ, অভিনেত্রী হিমি, উপস্থাপিকা ফারহানা ন্যান্সিসহ মোট ১২ জন গুণী ব্যক্তির মায়েদেরও ‘মা পদক’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে ববিতা জানান, তার মা ছিলেন একজন চিকিৎসক। মায়ের মৃত্যুর পর বড় বোন সুচন্দা ছোট ভাইবোনদের আগলে রেখেছিলেন। এরপর স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে তিনি কাজ করে গেছেন নিরন্তর।

কর্মজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেই মা হন ববিতা। তার ছেলে অনিককে ঘিরেই আবর্তিত হতে থাকে জীবনের নতুন অধ্যায়। তিনি বলেন, “চলচ্চিত্রে তখন আমি খুব ব্যস্ত ছিলাম। তারপরেও আমার হৃদয়জুড়ে সবসময় অনিক ছিল। তার যত্ন, তার সবকিছু আমি নিজেই দেখতাম।”

অনিক ছোটবেলাতেই পিতৃহারা হন। এরপর একাই সন্তানের মা ও বাবার দায়িত্ব পালন করেন এই অভিনেত্রী। ববিতার ভাষায়, “আমি একজন সিঙ্গেল পেরেন্ট হিসেবে অনিকের মা এবং বাবা—দুই ভূমিকাই পালন করেছি।”

পরে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে তার ছেলে কানাডায় চলে যান। সেই সময়টাকে জীবনের সবচেয়ে শূন্য অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে ববিতা বলেন, “আমার পৃথিবী তখন শুধুই শূন্যতা। পরে আমি ছুটে যাই কানাডায়।”

স্বামী হারানোর পর জীবনে নতুন করে সংসার গড়ার সুযোগ এলেও তিনি নিজেকে পুরোপুরি সন্তানের মাঝেই ডুবিয়ে রেখেছিলেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “অনিক পিতৃহারা হওয়ার পর আমার জীবনে অনেকেই আসতে চেয়েছিলেন। পরিবারেরও সম্মতি ছিল। কিন্তু আমি শুধু আমার সন্তানের মাঝেই মিশে গেলাম।”

বর্তমানে তার ছেলে কানাডার একটি বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছেন। সন্তানের সাফল্য নিয়েই এখন জীবনের সবচেয়ে বড় শান্তি খুঁজে পান এই অভিনেত্রী। ববিতা বলেন, “আমার সন্তানই আমাকে জীবনে চলার পথের আলো দেখিয়েছে। বাকি জীবন আমি আমার সন্তানের ভালোবাসা নিয়েই কাটিয়ে দিতে চাই।”