ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

রাজবাড়ীতে ৩৭ লাখ টাকার স্কুল ভবন: দোতলায় ওঠার সিঁড়ি নেই, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার তালতলা সপ্তপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় চার বছর আগে ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি দুই তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ভবনটির দোতলায় ওঠার জন্য কোনো সিঁড়ি তৈরি করা হয়নি। ফলে দোতলার কক্ষগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে শিক্ষকরা নিচতলায় গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই দোতলা ভবনটি নির্মাণে জেলা পরিষদ থেকে চার দফায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। মোট ৩৭ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও অপরিহার্য অবকাঠামো হিসেবে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় ক্লাস চললেও দ্বিতীয়তলা পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী। এর ফলে নিচতলায় গাদাগাদি করে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই কক্ষে অস্থায়ী পার্টিশন দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে, যা পাঠদানের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানায়, পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে অনেক সময় ঠিকমতো বসার সুযোগও থাকে না। দোতলায় কক্ষ থাকা সত্ত্বেও সিঁড়ি না থাকায় তা ব্যবহার করতে না পারায় তাদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।

এদিকে শিক্ষকদের অভিযোগ, শুধু ভবন সংকটই নয়, বিদ্যালয়ে সুপেয় পানিরও ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি খেলার মাঠটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে কাঁদায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়, যার ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ বন্ধু রায় বলেন, জেলা পরিষদের বরাদ্দে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সিঁড়ি না থাকায় শিক্ষার্থীরা সেটি ব্যবহার করতে পারছে না। তিনি দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে সিঁড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধাপে ধাপে বরাদ্দ নেওয়ায় এমনটি হয়েছে হয়তো। এককালীন বরাদ্দ হলে এটা ঘটতো না। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিঁড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়, তা যেন ব্যবহারযোগ্য হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। তাই দ্রুত সিঁড়ি নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মদ পান করে কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে, একজন আটক

রাজবাড়ীতে ৩৭ লাখ টাকার স্কুল ভবন: দোতলায় ওঠার সিঁড়ি নেই, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার তালতলা সপ্তপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় চার বছর আগে ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি দুই তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ভবনটির দোতলায় ওঠার জন্য কোনো সিঁড়ি তৈরি করা হয়নি। ফলে দোতলার কক্ষগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে শিক্ষকরা নিচতলায় গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই দোতলা ভবনটি নির্মাণে জেলা পরিষদ থেকে চার দফায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। মোট ৩৭ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও অপরিহার্য অবকাঠামো হিসেবে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় ক্লাস চললেও দ্বিতীয়তলা পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী। এর ফলে নিচতলায় গাদাগাদি করে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই কক্ষে অস্থায়ী পার্টিশন দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে, যা পাঠদানের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানায়, পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে অনেক সময় ঠিকমতো বসার সুযোগও থাকে না। দোতলায় কক্ষ থাকা সত্ত্বেও সিঁড়ি না থাকায় তা ব্যবহার করতে না পারায় তাদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।

এদিকে শিক্ষকদের অভিযোগ, শুধু ভবন সংকটই নয়, বিদ্যালয়ে সুপেয় পানিরও ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি খেলার মাঠটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে কাঁদায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়, যার ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ বন্ধু রায় বলেন, জেলা পরিষদের বরাদ্দে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সিঁড়ি না থাকায় শিক্ষার্থীরা সেটি ব্যবহার করতে পারছে না। তিনি দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে সিঁড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধাপে ধাপে বরাদ্দ নেওয়ায় এমনটি হয়েছে হয়তো। এককালীন বরাদ্দ হলে এটা ঘটতো না। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিঁড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়, তা যেন ব্যবহারযোগ্য হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। তাই দ্রুত সিঁড়ি নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন।