ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদে ধামরাইয়ে প্রস্তুত অর্ধ লক্ষাধিক পশু, ১৭ হাজার উদ্বৃত্ত

আসন্ন ঈদ উল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকার ধামরাইয়ে প্রায় ৫১ হাজার ৫০৮টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ১৭ হাজার পশু দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ধামরাইয়ের প্রায় তিন শতাধিক খামারি এ বছর ১ হাজার ২২৫টি গাভী ও বকনা গরু, ৩১ হাজার ৪৩টি ষাঁড়, ২৪০টি বলদ, ৪০টি মহিষ, ১৬ হাজার ৫৬০টি ছাগল এবং ২ হাজার ৪০০টি ভেড়া প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা সব মিলিয়ে ৩২ হাজার ৫৪৮টি।

তথ্য বলছে, ধামরাইয়ে কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৩৫ হাজার। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর অন্তত ১৭ হাজারের বেশি পশু ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।

পশু পালনকারী কৃষক ও খামারিরা জানিয়েছেন, এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই প্রাকৃতিক ও দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন ও মোটাতাজাকরণ করেছেন। শেষ সময়ে অতিরিক্ত লাভের আশায় পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরুর গোসল, কাঁচা ঘাস সংগ্রহ, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছেন পশু পালনকারীরা। তবে গো-খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলে তারা জানান।

ধামরাইয়ের খামারি আনোয়ার হোসেন জানান, এবারের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি প্রায় ২০টি গরু প্রস্তুত করেছেন। তিনি বলেন, “গাভীর বাছুরগুলো প্রাকৃতিক উপায়ে কাঁচা ঘাস ও কুড়া-ভুষি খাইয়ে বড় করেছি। এখন ব্যাপারিরা একেকটি গরুর দাম ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বলছেন। তবে আমি আশা করছি, দাম আরও বাড়বে।”

ধামরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ধামরাইয়ে কোরবানির জন্য ৫১ হাজার ৫০৮টি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় জাতের পাশাপাশি নেপালি, অস্ট্রেলিয়ান, ফ্রিজিয়ান ও হরিয়ানা জাতের গরুও রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর বাকি পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা, স্বামী পলাতক

কোরবানির ঈদে ধামরাইয়ে প্রস্তুত অর্ধ লক্ষাধিক পশু, ১৭ হাজার উদ্বৃত্ত

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

আসন্ন ঈদ উল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকার ধামরাইয়ে প্রায় ৫১ হাজার ৫০৮টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ১৭ হাজার পশু দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ধামরাইয়ের প্রায় তিন শতাধিক খামারি এ বছর ১ হাজার ২২৫টি গাভী ও বকনা গরু, ৩১ হাজার ৪৩টি ষাঁড়, ২৪০টি বলদ, ৪০টি মহিষ, ১৬ হাজার ৫৬০টি ছাগল এবং ২ হাজার ৪০০টি ভেড়া প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা সব মিলিয়ে ৩২ হাজার ৫৪৮টি।

তথ্য বলছে, ধামরাইয়ে কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৩৫ হাজার। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর অন্তত ১৭ হাজারের বেশি পশু ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।

পশু পালনকারী কৃষক ও খামারিরা জানিয়েছেন, এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই প্রাকৃতিক ও দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন ও মোটাতাজাকরণ করেছেন। শেষ সময়ে অতিরিক্ত লাভের আশায় পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরুর গোসল, কাঁচা ঘাস সংগ্রহ, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছেন পশু পালনকারীরা। তবে গো-খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলে তারা জানান।

ধামরাইয়ের খামারি আনোয়ার হোসেন জানান, এবারের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি প্রায় ২০টি গরু প্রস্তুত করেছেন। তিনি বলেন, “গাভীর বাছুরগুলো প্রাকৃতিক উপায়ে কাঁচা ঘাস ও কুড়া-ভুষি খাইয়ে বড় করেছি। এখন ব্যাপারিরা একেকটি গরুর দাম ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বলছেন। তবে আমি আশা করছি, দাম আরও বাড়বে।”

ধামরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ধামরাইয়ে কোরবানির জন্য ৫১ হাজার ৫০৮টি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় জাতের পাশাপাশি নেপালি, অস্ট্রেলিয়ান, ফ্রিজিয়ান ও হরিয়ানা জাতের গরুও রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর বাকি পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হবে।