দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি চলাকালীন সময়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। ঈদের দিন সকাল ৮টা থেকে পরের দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় দেশের ১৫টি জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটেছে।
সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লায়, যেখানে একটি ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পাদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সে সময় রেলগেট নামানো ছিল না। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে টেনে জাঙ্গালিয়া স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামেন এবং আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসকও ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যান্য জেলার মধ্যে হবিগঞ্জে ৪ জন, ফেনীতে ৩ জন, ময়মনসিংহে ২ জন, নাটোরে ২ জন এবং চট্টগ্রামের পটিয়া ও মিরসরাইয়ে ২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন।
ফেনীতে একটি বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামপুর লাতুমিয়া সড়কের থামায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি আসাদুল ইসলাম জানান, মহাসড়কের ওই অংশে নির্মাণ কাজ চলার কারণে যান চলাচল ধীরগতিতে হচ্ছিল। একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে যাওয়ার সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস সেটিকে ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে বাস ও অ্যাম্বুলেন্স চালকের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হলে পেছন থেকে আসা মোটরসাইকেল ও অন্যান্য বাসগুলো জটলার সৃষ্টি করে। সেই জটলার মধ্যে বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস এসে ধাক্কা দিলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
রিপোর্টারের নাম 
























