ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

যন্ত্রযানের ভিড়ে ঘোড়ার গাড়ির ভিন্নধর্মী আকর্ষণ

রাজধানীর অগণিত যান্ত্রিক যানবাহনের মাঝেও ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণ এক ভিন্নধর্মী আনন্দ এনে দিচ্ছে। আজ শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সামনে এমন চিত্র দেখা গেছে, যেখানে পরিবারসহ ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে আসা মানুষেরা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

মিরপুরের কালশি থেকে আসা মুরাদ জানান, ঈদের দিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সংসদ ভবন এলাকায় ঘোরার জন্য এসেছেন। তার ছোট মেয়ে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ার বায়না ধরলে তাদের আনন্দের জন্য তিনি পরিবার নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। তিনি আরও জানান, সাধারণত এই ঘোড়ার গাড়িগুলো (টমটম) গুলिस्तान থেকে সদরঘাট পর্যন্ত যাত্রী বহন করে, কিন্তু আজ তারা রিজার্ভে যাত্রী নিচ্ছে।

টুটুন নামের আরেকজন বলেন, ঈদের সময় অন্যান্য স্থান ফাঁকা থাকলেও এই এলাকায় বেশ যানজট দেখা যায়। অনেক মানুষ ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে এখানে এসেছেন। এখানে এসে টমটম দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছেন। ঢাকার রাস্তায় ব্রিটিশ আমল থেকেই টমটমের প্রচলন ছিল, কিন্তু বর্তমানে যান্ত্রিক যুগে এর ব্যবহার কমে এসেছে। তাই পরিবারের সবাই মিলে এই ঐতিহ্যবাহী বাহনে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর লোভ সামলাতে পারেননি তারা।

টমটমের স্বত্তাধিকারী মো. কুদ্দুস দেওয়ান জানান, সারা বছর সদরঘাট থেকে গুলিস্তানে ভাড়ায় টমটম চালান। কিন্তু ঈদের সাত দিন তারা বিভিন্ন বিনোদন স্পটে আসেন। এবার সংসদ ভবন এলাকায় ব্যবসা করতে এসেছেন। প্রতিটি টমটমে দুই পাশের বেঞ্চে তিনজন করে, পাটাতনে তিনজন এবং চালকসহ মোট দশজন বসতে পারে।

কুদ্দুস দেওয়ান আরও বলেন, বর্তমানে বর্ণাঢ্য কোনো র‌্যালি বা বিয়ের হলুদের অনুষ্ঠানেও ঘোড়াচালিত টমটম নেওয়া হয়। গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হয় ২০ টাকা। তবে কেউ যদি রিজার্ভে নিতে চায়, তবে দামাদামি করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। এবার এখানে অনেক ঘোড়ার গাড়ি এসেছে এবং দর্শনার্থীর সংখ্যাও অনেক বেশি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: বাম ভোটারদের সমর্থনে বিজেপির অপ্রত্যাশিত জয়?

যন্ত্রযানের ভিড়ে ঘোড়ার গাড়ির ভিন্নধর্মী আকর্ষণ

আপডেট সময় : ০৮:৩০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর অগণিত যান্ত্রিক যানবাহনের মাঝেও ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণ এক ভিন্নধর্মী আনন্দ এনে দিচ্ছে। আজ শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সামনে এমন চিত্র দেখা গেছে, যেখানে পরিবারসহ ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে আসা মানুষেরা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

মিরপুরের কালশি থেকে আসা মুরাদ জানান, ঈদের দিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সংসদ ভবন এলাকায় ঘোরার জন্য এসেছেন। তার ছোট মেয়ে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ার বায়না ধরলে তাদের আনন্দের জন্য তিনি পরিবার নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। তিনি আরও জানান, সাধারণত এই ঘোড়ার গাড়িগুলো (টমটম) গুলिस्तान থেকে সদরঘাট পর্যন্ত যাত্রী বহন করে, কিন্তু আজ তারা রিজার্ভে যাত্রী নিচ্ছে।

টুটুন নামের আরেকজন বলেন, ঈদের সময় অন্যান্য স্থান ফাঁকা থাকলেও এই এলাকায় বেশ যানজট দেখা যায়। অনেক মানুষ ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে এখানে এসেছেন। এখানে এসে টমটম দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছেন। ঢাকার রাস্তায় ব্রিটিশ আমল থেকেই টমটমের প্রচলন ছিল, কিন্তু বর্তমানে যান্ত্রিক যুগে এর ব্যবহার কমে এসেছে। তাই পরিবারের সবাই মিলে এই ঐতিহ্যবাহী বাহনে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর লোভ সামলাতে পারেননি তারা।

টমটমের স্বত্তাধিকারী মো. কুদ্দুস দেওয়ান জানান, সারা বছর সদরঘাট থেকে গুলিস্তানে ভাড়ায় টমটম চালান। কিন্তু ঈদের সাত দিন তারা বিভিন্ন বিনোদন স্পটে আসেন। এবার সংসদ ভবন এলাকায় ব্যবসা করতে এসেছেন। প্রতিটি টমটমে দুই পাশের বেঞ্চে তিনজন করে, পাটাতনে তিনজন এবং চালকসহ মোট দশজন বসতে পারে।

কুদ্দুস দেওয়ান আরও বলেন, বর্তমানে বর্ণাঢ্য কোনো র‌্যালি বা বিয়ের হলুদের অনুষ্ঠানেও ঘোড়াচালিত টমটম নেওয়া হয়। গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হয় ২০ টাকা। তবে কেউ যদি রিজার্ভে নিতে চায়, তবে দামাদামি করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। এবার এখানে অনেক ঘোড়ার গাড়ি এসেছে এবং দর্শনার্থীর সংখ্যাও অনেক বেশি।