মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবার এবং প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্য দিয়ে এই উৎসব পালিত হয়। তবে সমাজের সকল মুসলিমের জন্য ঈদের আনন্দ একরকম হয় না। রাজশাহী নগরীর এতিমখানা ও সরকারি শিশু সদনে বেড়ে ওঠা শিশুরা এবং পথশিশুদের কাছে ঈদ মানে সীমিত আয়োজনের মাঝেও ছোট ছোট আনন্দ খুঁজে নেওয়া।
রাজশাহী নগরীর সরকারি শিশু সদনসহ বিভিন্ন এতিমখানায় আশ্রয় নেওয়া অনেক শিশুর পরিবার নেই অথবা বিভিন্ন কারণে তারা এখানে বসবাস করছে। ঈদ ঘিরে তাদের মধ্যেও থাকে এক ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা। শিশু সদনের এক কিশোর রাফি (ছদ্মনাম) জানায়, ঈদের দিন তাদের নতুন জামা দেওয়া হয় এবং বিশেষ খাবার রান্না করা হয়। সবাই মিলে খেলাধুলা করে আনন্দে সময় কাটায়। তবে, অন্যদের পরিবারের সদস্যদের আসতে দেখে নিজের পরিবারের কথা মনে পড়ে তাদের, যা কিছুটা বিষাদের জন্ম দেয়।
শিশু সদনের কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, ঈদের সময় শিশুরা যেন একাকিত্ব বোধ না করে, সেজন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়। কর্মরতরাও শিশুদের সাথে ঈদ উদযাপন করেন। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তিরা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে আসেন, উপহার দেন এবং খাবারের আয়োজন করেন, যা শিশুদের মধ্যে ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও ছড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার, রেলস্টেশন, লক্ষ্মীপুর ও কোর্ট এলাকার ফুটপাতে বসবাসকারী পথশিশুদের কাছে ঈদের দিনটিও অনেকটা সাধারণ দিনের মতোই কাটে। কেউ ফুল বিক্রি করে, কেউ পলিথিন বা বোতল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। ঈদের দিনে নতুন পোশাক পাওয়া তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। সাহেববাজার এলাকার এক পথশিশু জিসান বলে, ঈদের দিন কেউ নতুন জামা দিলে খুব ভালো লাগে। মাঝে মাঝে কিছু মানুষ খাবারও দেয়, তখন মনে হয় আমরাও ঈদ করছি। রেলস্টেশন এলাকার আরেক কিশোর জয়নাল জানায়, সে বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরি করে এবং কেউ খাবার দিলে খায়, না হলে যা পায় তা দিয়েই দিন কাটে।
রিপোর্টারের নাম 

























