ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

গোমস্তাপুরে ধানের ব্যাপক ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট আক্রমণ: কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ধানের ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট রোগের প্রাদুর্ভাব কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রহনপুর, রাধারনগর এবং পার্বতীপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এই রোগের কবলে পড়েছে, যা ফলন নিয়ে কৃষকদের অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রথমে রোগের লক্ষণ দেখা দিলেও তা দ্রুত পুরো ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ছে। ধানের পাতা হলুদ হয়ে ধীরে ধীরে বাদামী রঙ ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরো গাছই দুর্বল হয়ে মারা যাচ্ছে, ফলে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং শীষে দানা পুর্ণতা পাচ্ছে না। অনেক কৃষক একাধিকবার ওষুধ প্রয়োগ করেও আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না।

কৃষকরা জানিয়েছেন, তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব বোধ করছেন।

গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন জানান, অনুকূল আবহাওয়া, জমিতে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকা, অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে এই রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। তিনি আক্রান্ত জমিতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন, সুষম সার প্রয়োগ, রোগ প্রতিরোধী জাতের ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষতি কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি জোরদার করা জরুরি। অন্যথায়, চলতি মৌসুমে গোমস্তাপুরের হাজার হাজার কৃষক বড় ধরনের ফলন বিপর্যয় ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি আগ্রাসন, অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি আটক

গোমস্তাপুরে ধানের ব্যাপক ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট আক্রমণ: কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে

আপডেট সময় : ০৪:২০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ধানের ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট রোগের প্রাদুর্ভাব কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রহনপুর, রাধারনগর এবং পার্বতীপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এই রোগের কবলে পড়েছে, যা ফলন নিয়ে কৃষকদের অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রথমে রোগের লক্ষণ দেখা দিলেও তা দ্রুত পুরো ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ছে। ধানের পাতা হলুদ হয়ে ধীরে ধীরে বাদামী রঙ ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরো গাছই দুর্বল হয়ে মারা যাচ্ছে, ফলে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং শীষে দানা পুর্ণতা পাচ্ছে না। অনেক কৃষক একাধিকবার ওষুধ প্রয়োগ করেও আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না।

কৃষকরা জানিয়েছেন, তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব বোধ করছেন।

গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন জানান, অনুকূল আবহাওয়া, জমিতে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকা, অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে এই রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। তিনি আক্রান্ত জমিতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন, সুষম সার প্রয়োগ, রোগ প্রতিরোধী জাতের ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষতি কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি জোরদার করা জরুরি। অন্যথায়, চলতি মৌসুমে গোমস্তাপুরের হাজার হাজার কৃষক বড় ধরনের ফলন বিপর্যয় ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।