খাল খনন প্রকল্পের কারণে শৈলকুপায় বজ্রপাত প্রতিরোধের জন্য রোপণ করা লক্ষাধিক তালগাছ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এই উদ্যোগের ফলে গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। বিশেষ করে, যে শিক্ষার্থীরা একসময় নিজেদের হাতে এসব গাছের বীজ রোপণ করেছিল, তারা এই ঘটনায় মর্মাহত।
২০১৮ সালে শৈলকুপার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমান গনির উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীরা রাস্তার দুধারে এবং পাউবোর খালের পাড়ে লক্ষাধিক তালের বীজ রোপণ করে। সময়ের পরিক্রমায় এই চারাগাছগুলো এখন বড় হয়ে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে।
তবে, শৈলকুপা উপজেলাজুড়ে খালের নাব্য ফিরিয়ে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ড খনন কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে খালের পাড়ে থাকা তালগাছসহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ উচ্ছেদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক ফিরোজ খান বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের হাতে এই গাছগুলো লাগিয়েছিল এবং এগুলো এখন পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছে। খাল খনন জরুরি হলেও, নকশায় সামান্য পরিবর্তন আনলে গাছগুলো রক্ষা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় গাছ সংরক্ষণের জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের নকশা পরিবর্তনের নজির রয়েছে, সেখানে বজ্রপাত রোধে কার্যকর এই তালগাছগুলো কেন কেটে ফেলা হবে? পরিবেশকর্মীরাও দাবি জানিয়েছেন যে, পরিকল্পনাহীনভাবে গাছ কেটে উন্নয়ন নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে কিছু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে গাছ সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যে উদ্যোগ একসময় সারা দেশে মডেল হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল, তা যেন প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে নষ্ট না হয়ে যায়।
রিপোর্টারের নাম 

























