ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

হজের মাসে ওমরাহ পালনের বিধান ও বিশেষ গুরুত্ব

হজের মাসসমূহে ওমরাহ করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়—এমন ধারণাটি সঠিক নয়। ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, বছরের যেকোনো সময় ওমরাহ করা জায়েজ হলেও কেবল হজের নির্ধারিত পাঁচদিন অর্থাৎ জিলহজ মাসের ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ তারিখে ওমরাহ করা মাকরুহ তাহরিমি বা নিষিদ্ধ। এই দিনগুলো ব্যতীত হজের মাস হিসেবে পরিচিত শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজের প্রথম আট দিন ওমরাহ পালনে কোনো ধর্মীয় বাধা নেই। বরং অনেক আলেম এই সময়ে ওমরাহ করাকে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ মনে করেন, কারণ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনের সবগুলো ওমরাহ হজের মাসগুলোতেই, বিশেষ করে জিলকদ মাসে আদায় করেছিলেন। ফলে কেউ যদি নবীজিকে (সা.) অনুসরণের নিয়তে এই সময়ে ওমরাহ পালন করেন, তবে তিনি ওমরাহর পাশাপাশি সুন্নাহ অনুসরণের সওয়াবও লাভ করবেন বলে আশা করা যায়। যদিও হাদিসে রমজান মাসের ওমরাহকে হজের সমতুল্য সওয়াবের কাজ হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ—এই তিনটি মাসকে পবিত্র কুরআনে হজের নির্দিষ্ট মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, এই মাসগুলোর যেকোনো দিন হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যাবে। মূলত এই মাসগুলো হজের মাস হওয়ার প্রকৃত তাৎপর্য হলো, হজের ইহরাম বাঁধার সময়কাল এই মাসগুলো থেকেই শুরু হয়। শাওয়াল মাসের আগে হজের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধা সঠিক নয়; বরং শাওয়ালের শুরু থেকেই হজের প্রস্তুতি ও ইহরাম গ্রহণের নির্দিষ্ট সময়সীমা শুরু হয়। তবে হজের প্রধান রোকনগুলো যেমন—আরাফায় অবস্থান এবং পরবর্তী আমলগুলো জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনগুলোতেই সম্পন্ন করতে হয়। মূলত হজের ইহরাম ও আনুষঙ্গিক কার্যাবলি এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুরু করা যায় বলেই এই তিন মাসকে ইসলামের ইতিহাসে হজের মাস হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বাস ও লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

হজের মাসে ওমরাহ পালনের বিধান ও বিশেষ গুরুত্ব

আপডেট সময় : ০৯:১০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

হজের মাসসমূহে ওমরাহ করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়—এমন ধারণাটি সঠিক নয়। ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, বছরের যেকোনো সময় ওমরাহ করা জায়েজ হলেও কেবল হজের নির্ধারিত পাঁচদিন অর্থাৎ জিলহজ মাসের ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ তারিখে ওমরাহ করা মাকরুহ তাহরিমি বা নিষিদ্ধ। এই দিনগুলো ব্যতীত হজের মাস হিসেবে পরিচিত শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজের প্রথম আট দিন ওমরাহ পালনে কোনো ধর্মীয় বাধা নেই। বরং অনেক আলেম এই সময়ে ওমরাহ করাকে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ মনে করেন, কারণ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনের সবগুলো ওমরাহ হজের মাসগুলোতেই, বিশেষ করে জিলকদ মাসে আদায় করেছিলেন। ফলে কেউ যদি নবীজিকে (সা.) অনুসরণের নিয়তে এই সময়ে ওমরাহ পালন করেন, তবে তিনি ওমরাহর পাশাপাশি সুন্নাহ অনুসরণের সওয়াবও লাভ করবেন বলে আশা করা যায়। যদিও হাদিসে রমজান মাসের ওমরাহকে হজের সমতুল্য সওয়াবের কাজ হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ—এই তিনটি মাসকে পবিত্র কুরআনে হজের নির্দিষ্ট মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, এই মাসগুলোর যেকোনো দিন হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যাবে। মূলত এই মাসগুলো হজের মাস হওয়ার প্রকৃত তাৎপর্য হলো, হজের ইহরাম বাঁধার সময়কাল এই মাসগুলো থেকেই শুরু হয়। শাওয়াল মাসের আগে হজের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধা সঠিক নয়; বরং শাওয়ালের শুরু থেকেই হজের প্রস্তুতি ও ইহরাম গ্রহণের নির্দিষ্ট সময়সীমা শুরু হয়। তবে হজের প্রধান রোকনগুলো যেমন—আরাফায় অবস্থান এবং পরবর্তী আমলগুলো জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনগুলোতেই সম্পন্ন করতে হয়। মূলত হজের ইহরাম ও আনুষঙ্গিক কার্যাবলি এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুরু করা যায় বলেই এই তিন মাসকে ইসলামের ইতিহাসে হজের মাস হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।