ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের অবশিষ্ট শক্তি ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, হরমুজ প্রণালীর দায়িত্ব মিত্রদের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘অবশিষ্ট যা কিছু আছে তা-ও শেষ করে দেওয়ার’ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালীর দায়িত্ব জলপথটি ব্যবহারকারী দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই হুমকি দেন। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্রের এটির প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি ভাবছি, আমরা যদি ইরানি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের অবশিষ্টাংশ শেষ করে দিই এবং যারা এই প্রণালি ব্যবহার করে তাদের হাতে এর দায়িত্ব ছেড়ে দিই—তা হলে কী ঘটবে? কারণ আমরা তো এটি ব্যবহার করি না। এটি আমাদের অনেক নিষ্ক্রিয় মিত্রদের দ্রুত লাইনে নিয়ে আসবে!’

ইরান বরাবরই বলে আসছে যে হরমুজ প্রণালি খোলা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা বন্ধ না করলে, তাদের মিত্রদের জাহাজকে প্রণালি পার হতে দেওয়া হবে না। যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের অনুমতি নিয়ে ভারত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কয়েকটি ট্যাংকার প্রণালিটি পার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, ইরানে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় হামলার খবরে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল ব্যারেল প্রতি ১০৮.৬০ ডলারে পৌঁছেছে, যা মঙ্গলবারের তুলনায় পাঁচ শতাংশ বেশি। জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে। তাই যুদ্ধের শুরু থেকেই ন্যাটো ও এশিয়ার মিত্রদের হরমুজে যুদ্ধ জাহাজ পাঠাতে আহ্বান জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, স্পেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় কোনো দেশ এখনো ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এশিয়ার মিত্র দেশ জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও হরমুজে জাহাজ পাঠাবে না বলে জানিয়েছে। কেবল দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে তারা ট্রাম্পের আহ্বান বিবেচনা করে দেখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটের রায় অমান্য করলে বিএনপি বিশ্বাসঘাতক হবে: নেজামে ইসলাম পার্টি

ইরানের অবশিষ্ট শক্তি ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, হরমুজ প্রণালীর দায়িত্ব মিত্রদের

আপডেট সময় : ১১:২১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘অবশিষ্ট যা কিছু আছে তা-ও শেষ করে দেওয়ার’ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালীর দায়িত্ব জলপথটি ব্যবহারকারী দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই হুমকি দেন। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্রের এটির প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি ভাবছি, আমরা যদি ইরানি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের অবশিষ্টাংশ শেষ করে দিই এবং যারা এই প্রণালি ব্যবহার করে তাদের হাতে এর দায়িত্ব ছেড়ে দিই—তা হলে কী ঘটবে? কারণ আমরা তো এটি ব্যবহার করি না। এটি আমাদের অনেক নিষ্ক্রিয় মিত্রদের দ্রুত লাইনে নিয়ে আসবে!’

ইরান বরাবরই বলে আসছে যে হরমুজ প্রণালি খোলা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা বন্ধ না করলে, তাদের মিত্রদের জাহাজকে প্রণালি পার হতে দেওয়া হবে না। যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের অনুমতি নিয়ে ভারত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কয়েকটি ট্যাংকার প্রণালিটি পার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, ইরানে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় হামলার খবরে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল ব্যারেল প্রতি ১০৮.৬০ ডলারে পৌঁছেছে, যা মঙ্গলবারের তুলনায় পাঁচ শতাংশ বেশি। জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে। তাই যুদ্ধের শুরু থেকেই ন্যাটো ও এশিয়ার মিত্রদের হরমুজে যুদ্ধ জাহাজ পাঠাতে আহ্বান জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, স্পেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় কোনো দেশ এখনো ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এশিয়ার মিত্র দেশ জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও হরমুজে জাহাজ পাঠাবে না বলে জানিয়েছে। কেবল দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে তারা ট্রাম্পের আহ্বান বিবেচনা করে দেখবে।