ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

‘শ্বশুর’ পরিচয়ের প্রতারণা থেকে মিডিয়া জগতে দাপট: সাংবাদিক বাতেন বিপ্লবের উত্থানের নেপথ্যে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৭৬ বার পড়া হয়েছে

পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের এক নিখুঁত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এশিয়ান টিভির প্রধান প্রতিবেদক আব্দুল বাতেন বিপ্লব । প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তিনি একজন উচ্চাভিলাষী ব্যক্তি, যিনি সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী প্রভাব বলয়। তার এই উত্থানের পেছনে রয়েছে সাবেক সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে বানোয়াট সম্পর্ক তৈরি করে প্রতারণার মতো গুরুতর অভিযোগ ।

প্রতারণার শুরু ‘শ্বশুর’ পরিচয় দিয়ে: জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাতেন বিপ্লব সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে নিজের “শ্বশুর” হিসেবে পরিচয় দিয়ে মিডিয়া জগতে একচ্ছত্র দাপট দেখিয়েছেন । এই বানোয়াট পরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে তিনি ব্যবহার করেন তার কন্যার সাথে সাবেক মন্ত্রীর একটি ছবি। ছবিটি ফেসবুকে “নানার কোলে নাতনি” ক্যাপশনে পোস্ট করা হলেও, বাতেন বিপ্লব এই ছবিকেই পুঁজি করে মন্ত্রীকে তার “শ্বশুর” দাবি করে বেড়ান । এই মিথ্যা পরিচয়ের জোরে তিনি মিডিয়া জগতে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে ।

সুবিধাবাদী নেটওয়ার্কের বুনন: বাতেন বিপ্লবের কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নিজের প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন। তার এই নেটওয়ার্ক ত্রিমুখী:

১. রাজনৈতিক স্তম্ভ: তিনি আওয়ামী পন্থী হিসেবে পরিচিত । এই পরিচয়ে তিনি ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, ব্যারিস্টার সুমন এবং ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমা আক্তার লাবণ্যর মতো ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন ।

২. পেশাগত স্তম্ভ: সাংবাদিকতার অঙ্গনেও তিনি নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন। ‘রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা’ (আরডিজেএ)-এর মতো পেশাগত সংগঠনে তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িত হন এবং ২০২২-২৩ মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ও ২০২৫-২৬ মেয়াদে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন ।

৩. সামাজিক স্তম্ভ: প্রভাব বিস্তারের এই ছকে তিনি ‘ছোঁয়া ফাউন্ডেশন’ নামক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকেও যুক্ত করেন। তিনি ২০২১-২০২৩ সালের জন্য এই সংস্থাটির ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ।

আসল উদ্দেশ্য: ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল: মূলত, বাতেন বিপ্লব একাধারে রাজনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্র, পেশাগত সংগঠন এবং সামাজিক সংস্থার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন । তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণ করে, তিনি একজন সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি , যিনি পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে থেকে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে সক্রিয় । সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বানোয়াট সম্পর্ক তৈরি করে তা থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের যে অভিযোগ, তা তার চরিত্রের সুবিধাবাদী ও প্রতারণামূলক দিকটিই উন্মোচন করে ।

গুরুতর এসব অভিযোগ সত্ত্বেও আব্দুল বাতেন বিপ্লব বর্তমানে এশিয়ান টিভিতে প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন, যা তার তৈরি করা নেটওয়ার্কের শক্তিমত্তাকেই নির্দেশ করে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শচীনকে ছাড়িয়ে কোহলির বিশ্বরেকর্ড, কিউইদের হারিয়ে শুভসূচনা ভারতের

‘শ্বশুর’ পরিচয়ের প্রতারণা থেকে মিডিয়া জগতে দাপট: সাংবাদিক বাতেন বিপ্লবের উত্থানের নেপথ্যে

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের এক নিখুঁত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এশিয়ান টিভির প্রধান প্রতিবেদক আব্দুল বাতেন বিপ্লব । প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তিনি একজন উচ্চাভিলাষী ব্যক্তি, যিনি সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী প্রভাব বলয়। তার এই উত্থানের পেছনে রয়েছে সাবেক সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে বানোয়াট সম্পর্ক তৈরি করে প্রতারণার মতো গুরুতর অভিযোগ ।

প্রতারণার শুরু ‘শ্বশুর’ পরিচয় দিয়ে: জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাতেন বিপ্লব সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে নিজের “শ্বশুর” হিসেবে পরিচয় দিয়ে মিডিয়া জগতে একচ্ছত্র দাপট দেখিয়েছেন । এই বানোয়াট পরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে তিনি ব্যবহার করেন তার কন্যার সাথে সাবেক মন্ত্রীর একটি ছবি। ছবিটি ফেসবুকে “নানার কোলে নাতনি” ক্যাপশনে পোস্ট করা হলেও, বাতেন বিপ্লব এই ছবিকেই পুঁজি করে মন্ত্রীকে তার “শ্বশুর” দাবি করে বেড়ান । এই মিথ্যা পরিচয়ের জোরে তিনি মিডিয়া জগতে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে ।

সুবিধাবাদী নেটওয়ার্কের বুনন: বাতেন বিপ্লবের কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নিজের প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন। তার এই নেটওয়ার্ক ত্রিমুখী:

১. রাজনৈতিক স্তম্ভ: তিনি আওয়ামী পন্থী হিসেবে পরিচিত । এই পরিচয়ে তিনি ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, ব্যারিস্টার সুমন এবং ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমা আক্তার লাবণ্যর মতো ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন ।

২. পেশাগত স্তম্ভ: সাংবাদিকতার অঙ্গনেও তিনি নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন। ‘রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা’ (আরডিজেএ)-এর মতো পেশাগত সংগঠনে তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িত হন এবং ২০২২-২৩ মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ও ২০২৫-২৬ মেয়াদে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন ।

৩. সামাজিক স্তম্ভ: প্রভাব বিস্তারের এই ছকে তিনি ‘ছোঁয়া ফাউন্ডেশন’ নামক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকেও যুক্ত করেন। তিনি ২০২১-২০২৩ সালের জন্য এই সংস্থাটির ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ।

আসল উদ্দেশ্য: ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল: মূলত, বাতেন বিপ্লব একাধারে রাজনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্র, পেশাগত সংগঠন এবং সামাজিক সংস্থার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন । তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণ করে, তিনি একজন সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি , যিনি পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে থেকে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে সক্রিয় । সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বানোয়াট সম্পর্ক তৈরি করে তা থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের যে অভিযোগ, তা তার চরিত্রের সুবিধাবাদী ও প্রতারণামূলক দিকটিই উন্মোচন করে ।

গুরুতর এসব অভিযোগ সত্ত্বেও আব্দুল বাতেন বিপ্লব বর্তমানে এশিয়ান টিভিতে প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন, যা তার তৈরি করা নেটওয়ার্কের শক্তিমত্তাকেই নির্দেশ করে।