বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টায় মেলা প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে তিনি এই বর্ণিল আয়োজনের শুভ সূচনা করেন। তারিখ পরিবর্তন ও প্রকাশকদের নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে বইপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত হতে প্রস্তুত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ।
এবারের বইমেলা পবিত্র রমজান মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ায় মেলা ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। রমজানে মেলা আয়োজন নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রুহামা পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম মনে করেন, রমজান আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার মাস হওয়ায় এই সময়ে বইমেলা এক ভিন্ন তাৎপর্য বহন করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পবিত্র এই আবহে দর্শনার্থীরা আরও সুশৃঙ্খলভাবে জ্ঞান অন্বেষণে মনোযোগী হবেন। তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন প্রগতি পাবলিকেশনের প্রকাশক আশরার মাসুদ। রমজানের কারণে দর্শনার্থী সমাগম কম হতে পারে এবং এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় তিন স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। গতকাল পুলিশ কন্ট্রোল রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) সরওয়ার জানান, মেলায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশি মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, ফুট প্যাট্রোল এবং মুক্তমঞ্চকেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, সিটিটিসি ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মতো বিশেষায়িত দলগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা জনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটায়—এমন কোনো উসকানিমূলক প্রকাশনার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেলা প্রাঙ্গণকে পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত রাখতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।
এদিকে, মেলা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত সড়কে দর্শনার্থীদের আধিক্য বিবেচনায় সময়ভিত্তিক যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নীলক্ষেত, শাহবাগ ও দোয়েল চত্বর থেকে আগত যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট ডাইভারশন রুট ও পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও গাড়ি পার্কিং করলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে ট্রাফিক বিভাগ।
পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও উৎসবমুখর আবহে এবারের বইমেলা সফল করতে আয়োজক কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 




















