ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্মার্ট নজরদারিতে শরীয়তপুর: ১২০টি এআই ক্যামেরার আওতায় পুরো শহর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুর জেলাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। পুরো শহরকে ১২০টি অত্যাধুনিক এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শহরের পালং, আংগারিয়া ও মনোহর বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রসহ তিনটি প্রধান সড়ক ও সংযোগস্থলগুলোতে এই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস টার্মিনাল, আদালত, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোকেও এই নিরাপত্তা বলয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে শরীয়তপুর শহরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঢাকা, চাঁদপুর ও মাদারীপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি কীর্তিনাশা নদীর নৌপথ শহরটির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। নৌপথে চুরি ও ডাকাতি রোধে কোটাপাড়া এলাকাসহ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টেও বসানো হয়েছে বিশেষ নজরদারি ক্যামেরা।

সাম্প্রতিক সময়ে শহরে ছিনতাই, চুরি এবং মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরির মতো কিছু ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এছাড়া নদীপথে ডাকাতির সময় গণপিটুনিতে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ইতিপূর্বে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। মূলত এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতেই জেলা প্রশাসন এই বৃহৎ প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে একটি আধুনিক নিয়ন্ত্রণকক্ষ (কন্ট্রোল রুম), যেখান থেকে শহরজুড়ে স্থাপিত ক্যামেরাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই ক্যামেরায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি কোনো অস্বাভাবিক চলাচল, দুর্ঘটনা, যানজট কিংবা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা শনাক্ত করার সাথে সাথে নিয়ন্ত্রণকক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত পাঠাতে সক্ষম। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ইভটিজিং রোধ এবং মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করতে এই স্থায়ী নজরদারি ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর হবে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে জেলা শহরকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য পৌরসভাগুলোকেও এই স্মার্ট নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

সাধারণ নাগরিকরা মনে করছেন, এই আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে শরীয়তপুর একটি নিরাপদ ও আধুনিক শহর হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর, বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে তাওসিফ সামি

স্মার্ট নজরদারিতে শরীয়তপুর: ১২০টি এআই ক্যামেরার আওতায় পুরো শহর

আপডেট সময় : ০৩:১৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শরীয়তপুর জেলাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। পুরো শহরকে ১২০টি অত্যাধুনিক এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শহরের পালং, আংগারিয়া ও মনোহর বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রসহ তিনটি প্রধান সড়ক ও সংযোগস্থলগুলোতে এই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস টার্মিনাল, আদালত, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোকেও এই নিরাপত্তা বলয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে শরীয়তপুর শহরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঢাকা, চাঁদপুর ও মাদারীপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি কীর্তিনাশা নদীর নৌপথ শহরটির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। নৌপথে চুরি ও ডাকাতি রোধে কোটাপাড়া এলাকাসহ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টেও বসানো হয়েছে বিশেষ নজরদারি ক্যামেরা।

সাম্প্রতিক সময়ে শহরে ছিনতাই, চুরি এবং মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরির মতো কিছু ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এছাড়া নদীপথে ডাকাতির সময় গণপিটুনিতে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ইতিপূর্বে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। মূলত এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতেই জেলা প্রশাসন এই বৃহৎ প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে একটি আধুনিক নিয়ন্ত্রণকক্ষ (কন্ট্রোল রুম), যেখান থেকে শহরজুড়ে স্থাপিত ক্যামেরাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই ক্যামেরায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি কোনো অস্বাভাবিক চলাচল, দুর্ঘটনা, যানজট কিংবা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা শনাক্ত করার সাথে সাথে নিয়ন্ত্রণকক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত পাঠাতে সক্ষম। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ইভটিজিং রোধ এবং মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করতে এই স্থায়ী নজরদারি ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর হবে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে জেলা শহরকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য পৌরসভাগুলোকেও এই স্মার্ট নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

সাধারণ নাগরিকরা মনে করছেন, এই আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে শরীয়তপুর একটি নিরাপদ ও আধুনিক শহর হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।