পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম সাধনার পর আসছে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। প্রতিবারের মতো এবারও নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কর্মজীবী মানুষ। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার ও সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আসন্ন ঈদে সরকারি চাকরিজীবীরা অন্তত পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন। তবে ক্যালেন্ডারের মারপ্যাঁচে এই ছুটি দীর্ঘ করার এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ বা ২২ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হতে পারে। হিজরি শাওয়াল মাসের চাঁদ যদি ২০ মার্চ দেখা যায়, তবে ২১ মার্চ ঈদ উদযাপিত হবে। আর রমজান ৩০টি পূর্ণ হলে ঈদ হবে ২২ মার্চ। এই সম্ভাব্য সময়কে সামনে রেখে সরকার ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে ২৩ মার্চ সোমবার পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ঈদের ছুটি নির্ধারণ করেছে।
ছুটির হিসাবটি আরও নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৭ মার্চ মঙ্গলবার শবে কদরের নির্ধারিত ছুটি রয়েছে। এর পরদিন ১৮ মার্চ বুধবার একটি কার্যদিবস। আবার ঈদের পাঁচ দিনের ছুটি শেষ হওয়ার পর ২৪ ও ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার ও বুধবার) অফিস খোলা থাকলেও ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটি। এর পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীরা যদি ১৮ মার্চ এবং ২৪ ও ২৫ মার্চ—এই তিন দিন নৈমিত্তিক ছুটি নিতে পারেন, তবে তারা ১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১২ দিনের এক দীর্ঘ অবকাশ যাপনের সুযোগ পাবেন। আর যারা কেবল ২৪ ও ২৫ মার্চের ছুটি নেবেন, তাদেরও ১৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিন অফিস করতে হবে না।
বেসরকারি খাতের ক্ষেত্রে সাধারণত সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হলেও, অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ছুটি কমিয়ে বা বাড়িয়ে থাকে। ফলে বেসরকারি চাকরিজীবীদের ছুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রমজানের শুরু থেকেই দীর্ঘ ছুটিতে রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই কলেজগুলোতে রমজান ও ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৯ মার্চ পর্যন্ত। মাধ্যমিক স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে রমজানের শুরু থেকেই ছুটি কার্যকর করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ঈদের আমেজ শেষ করে আগামী ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষে ফিরবে।
সার্বিকভাবে, এবার ঈদুল ফিতরের ছুটির সঙ্গে শবে কদর ও স্বাধীনতা দিবসের ছুটি মিলেমিশে যাওয়ায় কর্মজীবীদের সামনে দীর্ঘ অবসরের হাতছানি দিচ্ছে, যা উৎসবের আনন্দকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















