আগামী ১২ মার্চ সকাল ১১টায় শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গতকাল সোমবার এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে দেশ একটি কার্যকর ও বিতর্কমুখর সংসদ পেতে যাচ্ছে বলে আশা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা।
সংসদের শক্তি বিন্যাস (২৯৭ আসন)
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। সংসদের বর্তমান আসন বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো:
| দল/জোট | আসন সংখ্যা |
| বিএনপি জোট | ২১২ (এককভাবে বিএনপি ২০৮) |
| জামায়াতে ইসলামী (১১ দলীয় জোট) | ৭৭ |
| ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ | ১ |
| স্বতন্ত্র ও অন্যান্য | ৭ |
বি.দ্র: একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত এবং দুটির ফলাফল স্থগিত রয়েছে।
প্রথম অধিবেশনের সম্ভাব্য কার্যক্রম ও চ্যালেঞ্জ
অধিবেশনের শুরুতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। যেহেতু বিদায়ী স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাবন্দি, তাই সংসদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব কে করবেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে। খন্দকার মোশাররফ হোসেন বা জয়নুল আবদিন ফারুকের মতো সিনিয়র সংসদ সদস্যদের নাম আলোচনায় রয়েছে।
অধিবেশন উত্তপ্ত হওয়ার প্রধান কারণসমূহ:
১. সংবিধান সংস্কার বিতর্ক: সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া-না নেওয়া নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের বিরোধ।
২. আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি: নির্বাচন-উত্তর সহিংসতা এবং আওয়ামী লীগের আত্মপ্রকাশের চেষ্টার অভিযোগ।
৩. জনদুর্ভোগ: নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম, ভয়াবহ যানজট এবং গ্যাস সংকট।
৪. জবাবদিহিতা: বিরোধী দল জামায়াত ইতোমধ্যে তাদের সংসদ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে যাতে তারা গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে।
সংসদ সদস্যদের অভিমত
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তারা নেতিবাচক রাজনীতির সংস্কৃতি ভেঙে একটি দায়িত্বশীল ও পজিটিভ বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে চান। অন্যদিকে, সরকারি দলের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল মনে করেন, এবার সংসদ কোনো ‘পরিবারের কাছে বাক্সবন্দি’ থাকবে না, বরং উচ্চশিক্ষিত সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে এটি একটি প্রকৃত গণমানুষের সংসদ হবে।
বিশ্লেষকদের মত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, “এবার সংসদে ব্যবসায়ীদের চেয়ে পেশাজীবী ও উচ্চশিক্ষিত নবীনের সংখ্যা বেশি। বিরোধী দলের আটঘাট বাঁধা প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছে সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে তারা অধিবেশনে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।” তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অহংকার যেন অতীত সরকারের মতো আত্মঘাতী না হয়।
রিপোর্টারের নাম 


















