নড়াইলের সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাতে নিহত খলিল শেখের ছেলে রুবেল শেখ বাদী হয়ে সদর থানায় এই মামলাটি করেন। মামলায় সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যাকে প্রধান আসামি করে ৬৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ৩ জনসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জত এবং আত্মীয় ফেরদৌস সিকদারের পক্ষে এই মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে একই ঘটনায় অন্য পক্ষে নিহত ওসিকুর ফকিরের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হয়ে কারাগারে থাকা আরও সাতজনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ফলে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১০ জন গ্রেপ্তার হলেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়োকুলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যা ও উজ্জল শেখের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিপক্ষের হামলায় উজ্জ্বল শেখের সমর্থক খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জত ও তাদের আত্মীয় ফেরদৌস সিকদার নিহত হন। অন্যদিকে, খায়ের মোল্যা পক্ষের ওসিকুর ফকিরও এই সংঘর্ষে প্রাণ হারান। হত্যাকাণ্ডের পর বড়োকুলা গ্রামে খায়ের পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















