ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ছাত্রদলের নতুন কমিটি ও ‘ছাত্রত্ব’ বিতর্ক: নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এখন সবার নজর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দিকে। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সংগঠনের শীর্ষ পদে ‘ছাত্রত্ব’ থাকা নেতাদের সুযোগ দেওয়া এবং ছাত্রলীগ বা ছাত্রশিবির থেকে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকানো। ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। কমিটির নেতাদের শিক্ষাবর্ষ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের অনেকেই প্রায় এক যুগ আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, যাদের নিয়মিত ছাত্রত্ব অনেক আগেই শেষ হওয়ার কথা। শুধু কেন্দ্রীয় কমিটিই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ অধিকাংশ নেতাই ২০১০-১১ বা ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

এই প্রেক্ষাপটে নতুন কমিটিতে কারা নেতৃত্বে আসবেন, তা নিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির জানিয়েছেন যে, সংগঠনের অভিভাবক তারেক রহমান যেভাবে চাইবেন সেভাবেই কমিটি হবে। ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে এবং যারা সংগঠনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের সমন্বয় করেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। বিশেষ করে ডাকসু নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফলাফল না আসায় এবারের কমিটি গঠনে বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে ছাত্রদল নেতারা জানিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনও মনে করেন যে, আগামী কমিটিতে ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার পাশাপাশি ছাত্রত্বকেও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।

অন্যদিকে, রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ নিয়ে ছাত্রদলের মধ্যে বিশেষ সতর্কতা কাজ করছে। ৫ আগস্টের পর ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক কমিটির বেশ কিছু নেতার ছাত্রলীগের সাথে পূর্ব সংশ্লিষ্টতার খবর সামনে আসায় ছাত্রদল এবার বেশ সচেতন। ছাত্রদল নেতারা দাবি করছেন, তাদের সংগঠনের কাঠামো এমনভাবে তৈরি যেখানে অন্য কোনো সংগঠনের নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশ করে টিকে থাকার সুযোগ নেই। নাছির উদ্দীন নাছিরের মতে, ছাত্রশিবির গুপ্ত রাজনীতি করলেও ছাত্রদলের রাজনীতি প্রকাশ্য এবং এখানে সবাই সবাইকে চেনে। ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইতোমধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং যারা সাধারণ ছাত্রদের মাঝে স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি করতে পারবেন, তাদেরকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। বিশেষ করে আগামী ডাকসু নির্বাচনকে মাথায় রেখে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব গড়ে তোলাই এখন দলটির মূল লক্ষ্য।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদীতে কিশোর হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ছাত্রদলের নতুন কমিটি ও ‘ছাত্রত্ব’ বিতর্ক: নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস

আপডেট সময় : ১০:১৫:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এখন সবার নজর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দিকে। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সংগঠনের শীর্ষ পদে ‘ছাত্রত্ব’ থাকা নেতাদের সুযোগ দেওয়া এবং ছাত্রলীগ বা ছাত্রশিবির থেকে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকানো। ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। কমিটির নেতাদের শিক্ষাবর্ষ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের অনেকেই প্রায় এক যুগ আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, যাদের নিয়মিত ছাত্রত্ব অনেক আগেই শেষ হওয়ার কথা। শুধু কেন্দ্রীয় কমিটিই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ অধিকাংশ নেতাই ২০১০-১১ বা ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

এই প্রেক্ষাপটে নতুন কমিটিতে কারা নেতৃত্বে আসবেন, তা নিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির জানিয়েছেন যে, সংগঠনের অভিভাবক তারেক রহমান যেভাবে চাইবেন সেভাবেই কমিটি হবে। ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে এবং যারা সংগঠনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের সমন্বয় করেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। বিশেষ করে ডাকসু নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফলাফল না আসায় এবারের কমিটি গঠনে বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে ছাত্রদল নেতারা জানিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনও মনে করেন যে, আগামী কমিটিতে ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার পাশাপাশি ছাত্রত্বকেও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।

অন্যদিকে, রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ নিয়ে ছাত্রদলের মধ্যে বিশেষ সতর্কতা কাজ করছে। ৫ আগস্টের পর ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক কমিটির বেশ কিছু নেতার ছাত্রলীগের সাথে পূর্ব সংশ্লিষ্টতার খবর সামনে আসায় ছাত্রদল এবার বেশ সচেতন। ছাত্রদল নেতারা দাবি করছেন, তাদের সংগঠনের কাঠামো এমনভাবে তৈরি যেখানে অন্য কোনো সংগঠনের নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশ করে টিকে থাকার সুযোগ নেই। নাছির উদ্দীন নাছিরের মতে, ছাত্রশিবির গুপ্ত রাজনীতি করলেও ছাত্রদলের রাজনীতি প্রকাশ্য এবং এখানে সবাই সবাইকে চেনে। ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইতোমধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং যারা সাধারণ ছাত্রদের মাঝে স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি করতে পারবেন, তাদেরকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। বিশেষ করে আগামী ডাকসু নির্বাচনকে মাথায় রেখে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব গড়ে তোলাই এখন দলটির মূল লক্ষ্য।