ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল: শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও বৈষম্য বৃদ্ধির আশঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩০:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশের বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান লটারি পদ্ধতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান, যা আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। সরকারের এই ঘোষণায় শিক্ষাবিদ এবং অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা চালু করার ফলে কোমলমতি শিশুদের আবার সেই পুরোনো ‘ভর্তিযুদ্ধে’ নামতে হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের শিশুদের ওপর এর ফলে অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি হবে এবং কোচিং-প্রাইভেট বাণিজ্যের প্রবণতা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এর ফলে শিক্ষাব্যবস্থায় যেমন বৈষম্য বাড়বে, তেমনি ভর্তিকেন্দ্রিক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির পথ প্রশস্ত হওয়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন যে, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে এখনো অনেক সময় বাকি থাকা সত্ত্বেও এত দ্রুত এমন একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। ২০১১ সাল থেকে মূলত ভর্তি-বাণিজ্য, অনিয়ম এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভালো বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। ইতিপূর্বে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানে লটারিবিহীন ভর্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, লটারি পদ্ধতি চালুর পর ভর্তি-বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছিল। কিন্তু এখন সরকারের এই আগাম ঘোষণার ফলে ভর্তি ও কোচিং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটগুলো পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান যে, ব্যাপক পর্যালোচনার মাধ্যমেই লটারি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন যে, শিশুদের জন্য খুব সাধারণ মানের পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে এলাকাভিত্তিক বিদ্যালয় শিক্ষা বা ‘জোনিং সিস্টেম’ চালু করা হবে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ মনে করেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া মানেই হলো মেধাবী ও অমেধাবীর তকমা দিয়ে শিশুকে ট্রমার মধ্যে ফেলে দেওয়া। তাদের মতে, ভর্তি পরীক্ষা মূলত উচ্চবিত্ত বা সচ্ছল মধ্যবিত্তের স্বার্থ রক্ষা করে, কারণ যারা কোচিং করার সুযোগ পায় তারাই এখানে টিকে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ লটারি পদ্ধতিই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা ছিল বলে তারা মনে করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

‘অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই’: পিরোজপুরে খুনের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল: শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও বৈষম্য বৃদ্ধির আশঙ্কা

আপডেট সময় : ১০:৩০:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

দেশের বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান লটারি পদ্ধতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান, যা আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। সরকারের এই ঘোষণায় শিক্ষাবিদ এবং অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা চালু করার ফলে কোমলমতি শিশুদের আবার সেই পুরোনো ‘ভর্তিযুদ্ধে’ নামতে হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের শিশুদের ওপর এর ফলে অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি হবে এবং কোচিং-প্রাইভেট বাণিজ্যের প্রবণতা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এর ফলে শিক্ষাব্যবস্থায় যেমন বৈষম্য বাড়বে, তেমনি ভর্তিকেন্দ্রিক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির পথ প্রশস্ত হওয়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন যে, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে এখনো অনেক সময় বাকি থাকা সত্ত্বেও এত দ্রুত এমন একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। ২০১১ সাল থেকে মূলত ভর্তি-বাণিজ্য, অনিয়ম এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভালো বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। ইতিপূর্বে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানে লটারিবিহীন ভর্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, লটারি পদ্ধতি চালুর পর ভর্তি-বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছিল। কিন্তু এখন সরকারের এই আগাম ঘোষণার ফলে ভর্তি ও কোচিং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটগুলো পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান যে, ব্যাপক পর্যালোচনার মাধ্যমেই লটারি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন যে, শিশুদের জন্য খুব সাধারণ মানের পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে এলাকাভিত্তিক বিদ্যালয় শিক্ষা বা ‘জোনিং সিস্টেম’ চালু করা হবে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ মনে করেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া মানেই হলো মেধাবী ও অমেধাবীর তকমা দিয়ে শিশুকে ট্রমার মধ্যে ফেলে দেওয়া। তাদের মতে, ভর্তি পরীক্ষা মূলত উচ্চবিত্ত বা সচ্ছল মধ্যবিত্তের স্বার্থ রক্ষা করে, কারণ যারা কোচিং করার সুযোগ পায় তারাই এখানে টিকে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ লটারি পদ্ধতিই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা ছিল বলে তারা মনে করেন।