ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনী রাজনীতিতে বামপন্থীদের চরম বিপর্যয়: অস্তিত্ব সংকটে রাজপথের দলগুলো

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৬:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রাজপথের আন্দোলনে লাল পতাকার দাপট থাকলেও নির্বাচনী ময়দানে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পল্টন ও জাতীয় প্রেস ক্লাব কেন্দ্রিক ঢাকা-৮ আসনে বাম দলগুলোর প্রার্থীরা অত্যন্ত নগণ্য ভোট পেয়েছেন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ছিল তিন অংকের ঘরে, যা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

শ্রমিক অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত গাজীপুর-২ আসনেও বামপন্থীদের অবস্থান ছিল শোচনীয়। সেখানে কাঁচি ও কাস্তে প্রতীকের প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে লড়া ১৪৭ জন প্রার্থীর প্রায় সবাই জামানত হারিয়েছেন। অনেক আসনে তাদের প্রাপ্ত ভোট একশ’র কোটাও পার হতে পারেনি। গণমাধ্যমে দৃশ্যমান উপস্থিতি থাকলেও ব্যালট বাক্সে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

নির্বাচনী তথ্যানুযায়ী, ১০ দলীয় বাম জোট সারা দেশে মোট বৈধ ভোটের মাত্র শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ পেয়েছে। সিপিবির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও নিজ নিজ আসনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শিক বিচ্যুতি, অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কর্মসূচি দিতে না পারাই বাম রাজনীতির এই করুণ পরিণতির মূল কারণ। এক সময়ের প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক ধারাটি এখন অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে নিমজ্জিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে খাসিয়ামারা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব, হুমকির মুখে জনপদ ও পরিবেশ

নির্বাচনী রাজনীতিতে বামপন্থীদের চরম বিপর্যয়: অস্তিত্ব সংকটে রাজপথের দলগুলো

আপডেট সময় : ০৯:০৬:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

রাজপথের আন্দোলনে লাল পতাকার দাপট থাকলেও নির্বাচনী ময়দানে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পল্টন ও জাতীয় প্রেস ক্লাব কেন্দ্রিক ঢাকা-৮ আসনে বাম দলগুলোর প্রার্থীরা অত্যন্ত নগণ্য ভোট পেয়েছেন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ছিল তিন অংকের ঘরে, যা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

শ্রমিক অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত গাজীপুর-২ আসনেও বামপন্থীদের অবস্থান ছিল শোচনীয়। সেখানে কাঁচি ও কাস্তে প্রতীকের প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে লড়া ১৪৭ জন প্রার্থীর প্রায় সবাই জামানত হারিয়েছেন। অনেক আসনে তাদের প্রাপ্ত ভোট একশ’র কোটাও পার হতে পারেনি। গণমাধ্যমে দৃশ্যমান উপস্থিতি থাকলেও ব্যালট বাক্সে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

নির্বাচনী তথ্যানুযায়ী, ১০ দলীয় বাম জোট সারা দেশে মোট বৈধ ভোটের মাত্র শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ পেয়েছে। সিপিবির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও নিজ নিজ আসনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শিক বিচ্যুতি, অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কর্মসূচি দিতে না পারাই বাম রাজনীতির এই করুণ পরিণতির মূল কারণ। এক সময়ের প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক ধারাটি এখন অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে নিমজ্জিত।