ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ফুজাইরা বন্দরে তেল কার্যক্রম স্বাভাবিক, বিশ্ববাজারে স্বস্তি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম বৃহৎ তেল স্থাপনা ফুজাইরা বন্দরে ড্রোন হামলার পর আবারও স্বাভাবিক হয়েছে কার্যক্রম। গত শনিবারের এই হামলার কারণে সাময়িকভাবে তেল লোডিং ও সরবরাহ ব্যাহত হলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত এই বন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে আসায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।

গত শনিবার ফুজাইরা বন্দরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়। ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়লে সেখানে সীমিত আকারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, তবে তা দ্রুত নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফুজাইরা বন্দরে তেল লোডিং এবং অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। বন্দরে এখন আগের মতোই তেলবাহী জাহাজ ভিড়ছে এবং জ্বালানি সরবরাহের কাজ চলছে।

কৌশলগতভাবে ফুজাইরা বন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হরমুজ প্রণালী থেকে মাত্র ৭০ মাইল দূরে অবস্থিত। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় অনেক জাহাজ বিকল্প হিসেবে এই বন্দরটি ব্যবহার করে। এর ফলে জাহাজগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ওই নৌপথ এড়িয়ে নিরাপদে জ্বালানি সংগ্রহ ও সরবরাহ করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে এ ধরনের হামলা বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তবে ফুজাইরা কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের ফলে সেই আশঙ্কা আপাতত অনেকটাই কেটে গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়: যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার প্রস্তাব দেয়নি ইরান

ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ফুজাইরা বন্দরে তেল কার্যক্রম স্বাভাবিক, বিশ্ববাজারে স্বস্তি

আপডেট সময় : ১০:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম বৃহৎ তেল স্থাপনা ফুজাইরা বন্দরে ড্রোন হামলার পর আবারও স্বাভাবিক হয়েছে কার্যক্রম। গত শনিবারের এই হামলার কারণে সাময়িকভাবে তেল লোডিং ও সরবরাহ ব্যাহত হলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত এই বন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে আসায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।

গত শনিবার ফুজাইরা বন্দরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়। ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়লে সেখানে সীমিত আকারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, তবে তা দ্রুত নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফুজাইরা বন্দরে তেল লোডিং এবং অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। বন্দরে এখন আগের মতোই তেলবাহী জাহাজ ভিড়ছে এবং জ্বালানি সরবরাহের কাজ চলছে।

কৌশলগতভাবে ফুজাইরা বন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হরমুজ প্রণালী থেকে মাত্র ৭০ মাইল দূরে অবস্থিত। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় অনেক জাহাজ বিকল্প হিসেবে এই বন্দরটি ব্যবহার করে। এর ফলে জাহাজগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ওই নৌপথ এড়িয়ে নিরাপদে জ্বালানি সংগ্রহ ও সরবরাহ করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে এ ধরনের হামলা বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তবে ফুজাইরা কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের ফলে সেই আশঙ্কা আপাতত অনেকটাই কেটে গেছে।