ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক প্রভাব: ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনাকে এখনো নিজের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখেন। মাদুরোকে অপসারণের মাধ্যমে তিনি একদিকে ভেনেজুয়েলার তেল ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন, অন্যদিকে কিউবার শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও দেখছেন।

ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে তার যৌথ অভিযানও একইভাবে সফল হবে। ইরান থেকে ইসরায়েল ও আরব উপদ্বীপের দেশগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হামলা তার এই বিশ্বাসে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। ট্রাম্পের ধারণা, তিনি জয়কে যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করুন না কেন, দিন শেষে তিনিই বিজয়ী হবেন।

ট্রাম্পের মতে, যুদ্ধের ফলে জ্বালানি বাজারে সাময়িক প্রভাব পড়লেও আমেরিকার অর্থনীতি তা সামাল দিতে সক্ষম হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস হয়ে গেলে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে। তার মতে, আমেরিকা তো বটেই, বিশ্বের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য এই ক্ষতি সামান্যই। বোকা লোকজনই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ভাবতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্বের অন্য উন্নত দেশগুলোর তুলনায় তেলের দাম বাড়লেও আমেরিকা অনেকটাই নিরাপদে রয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দশক থেকেই দেশীয় উৎপাদন বাড়ার কারণে অপরিশোধিত তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে আমেরিকায়। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বালানি সরবরাহে বড় ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে আমেরিকার মোট জ্বালানির প্রায় ৩৮ শতাংশ আসে তেল থেকে, যা ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ছিল ৪৮ শতাংশ। তখন আরব দেশগুলো আমেরিকায় তেল রপ্তানি বন্ধ করেছিল। এছাড়া, প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে এখন ৩০ থেকে ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের পানিপথ হরমুজ প্রণালি যখন ইরান বন্ধ করে দেয়, তখন ইউরোপের তেলের বাজারে একপ্রকার ভূমিকম্প শুরু হয়। একই সঙ্গে কাতার যখন তরলীকৃত গ্যাস উত্তোলন বন্ধ করে, তা ইউরোপে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। অথচ আমেরিকার অর্থনীতিতে তার প্রভাব সামান্যই। কিন্তু ট্রাম্প যতই আত্মবিশ্বাসী থাকুন না কেন, তিনিও পরাজয়ের মুখোমুখি হতে পারেন। আর তা ইরানের মতো তুলনামূলক কম শক্তিধর দেশের কাছে নয়, বরং এমন এক শক্তির কাছে যা বহুবার আমেরিকার সামরিক অভিযানে লাগাম টেনে ধরেছে। আর তা হলো দেশটির জনগণের বিরোধিতা। কেননা, ইরানে আমেরিকার হামলা দেশটির সাধারণ জনগণের কাছে অজনপ্রিয়। যুদ্ধের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অজনপ্রিয়তা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়: যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার প্রস্তাব দেয়নি ইরান

ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক প্রভাব: ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ১০:২৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনাকে এখনো নিজের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখেন। মাদুরোকে অপসারণের মাধ্যমে তিনি একদিকে ভেনেজুয়েলার তেল ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন, অন্যদিকে কিউবার শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও দেখছেন।

ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে তার যৌথ অভিযানও একইভাবে সফল হবে। ইরান থেকে ইসরায়েল ও আরব উপদ্বীপের দেশগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হামলা তার এই বিশ্বাসে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। ট্রাম্পের ধারণা, তিনি জয়কে যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করুন না কেন, দিন শেষে তিনিই বিজয়ী হবেন।

ট্রাম্পের মতে, যুদ্ধের ফলে জ্বালানি বাজারে সাময়িক প্রভাব পড়লেও আমেরিকার অর্থনীতি তা সামাল দিতে সক্ষম হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস হয়ে গেলে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে। তার মতে, আমেরিকা তো বটেই, বিশ্বের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য এই ক্ষতি সামান্যই। বোকা লোকজনই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ভাবতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্বের অন্য উন্নত দেশগুলোর তুলনায় তেলের দাম বাড়লেও আমেরিকা অনেকটাই নিরাপদে রয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দশক থেকেই দেশীয় উৎপাদন বাড়ার কারণে অপরিশোধিত তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে আমেরিকায়। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বালানি সরবরাহে বড় ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে আমেরিকার মোট জ্বালানির প্রায় ৩৮ শতাংশ আসে তেল থেকে, যা ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ছিল ৪৮ শতাংশ। তখন আরব দেশগুলো আমেরিকায় তেল রপ্তানি বন্ধ করেছিল। এছাড়া, প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে এখন ৩০ থেকে ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের পানিপথ হরমুজ প্রণালি যখন ইরান বন্ধ করে দেয়, তখন ইউরোপের তেলের বাজারে একপ্রকার ভূমিকম্প শুরু হয়। একই সঙ্গে কাতার যখন তরলীকৃত গ্যাস উত্তোলন বন্ধ করে, তা ইউরোপে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। অথচ আমেরিকার অর্থনীতিতে তার প্রভাব সামান্যই। কিন্তু ট্রাম্প যতই আত্মবিশ্বাসী থাকুন না কেন, তিনিও পরাজয়ের মুখোমুখি হতে পারেন। আর তা ইরানের মতো তুলনামূলক কম শক্তিধর দেশের কাছে নয়, বরং এমন এক শক্তির কাছে যা বহুবার আমেরিকার সামরিক অভিযানে লাগাম টেনে ধরেছে। আর তা হলো দেশটির জনগণের বিরোধিতা। কেননা, ইরানে আমেরিকার হামলা দেশটির সাধারণ জনগণের কাছে অজনপ্রিয়। যুদ্ধের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অজনপ্রিয়তা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।