ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় গভীর রাতে কৃষিজমির মাটি কাটা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক যুবক নিহত এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত রোববার ভোর রাতে উপজেলার কন্ট্রাক্টর মসজিদ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম হোনা মিয়া (৩৭)। তিনি উপজেলার পূর্ব শিলুয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে এবং স্থানীয় যুবদল কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সংঘর্ষে আহত দুইজন হলেন পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব সিলুয়া গ্রামের আলাউদ্দিন সুজন (৩০) ও নূর আলম (৪০)। তারা দুজনেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নে কন্ট্রাক্টর মসজিদ নামক স্থানে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জের ধরে রোববার ভোর রাতে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত তিনজনকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হোনা মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৭ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন: উপজেলার মটুয়া গ্রামের জাকির আহমদের ছেলে কামরুল হাসান জাহিদ (৩০), আবদুর রৌফের ছেলে ইসমাইল হোসেন মুন্না (২০), জাকির আহমদের ছেলে কামরুজ্জামান ফারুক (২৮), আবুল হাসেমের ছেলে মো: ইস্রাফিল (২৬) ও সফিকুর রহমানের ছেলে আজমিরুল ইসলাম (২৭), দক্ষিণ মটুয়ার মজিবুর রহমানের ছেলে আবদুর রহমান রকি (২৫), এবং মীরসরাই উপজেলার হিছাছড়া গ্রামের নাছির উদ্দিন মজুমদারের ছেলে ফয়েজ মোহাম্মদ মাহাদী (৩০)। স্থানীয়দের দাবি, আটককৃতদের মধ্যে জাহিদ ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী এবং বাকিরা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবদল ও ছাত্রদলের নামধারী কতিপয় ব্যক্তি প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশ করে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে আসছিল। ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























